আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়ে পাঁচটি তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় চারটি তেল ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের জাতীয় তেল পণ্য বিতরণ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কেরামাত ভেইস্কারামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত রাতে তেহরান ও আলবোরজ প্রদেশে চারটি তেল ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পরিবহন কেন্দ্র শত্রুপক্ষের বিমান হামলার শিকার হয়েছে।
তিনি জানান, পাঁচটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এর আগে শনিবার ইসরায়েল দাবি করে, তারা ইরানজুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এই হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
এদিকে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, প্রতিবেশী যেসব দেশে ইরানের হামলার প্রভাব পড়েছে তাদের কাছে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান বলেন, এটি কেবল “একটি স্বপ্ন”। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না হলে তাদের ওপর আক্রমণ স্থগিত রাখা হবে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি বলেন, যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব তেহরানকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের জ্বালানি খাতে হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদ পাল্টা জবাব দিতে পারে। একই সময়ে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন-এ ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে নরওয়ের রাজধানী অসলো-তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে রবিবার ভোরে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে নরওয়ের পুলিশ।
ইসরায়েল একই সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ায় লেবানন-কে সতর্ক করে ইসরায়েল বলেছে, দেশটি যদি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে তাকে “ভারী মূল্য” দিতে হবে। ইতোমধ্যে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শতাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বাড়তে থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্য ইকোনোমিক টাইমস
রিপোর্টার্স২৪/এসসি