আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত তাদের সবচেয়ে উন্নত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। দক্ষিণ ভারতের কল্পকামে স্থাপিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সম্প্রতি ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে পৌঁছেছে,যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়া নিজে থেকেই অব্যাহত থাকতে পারে।
এই সাফল্যকে দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এটিকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন।
ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর কী?
ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এমন এক ধরনের উন্নত পারমাণবিক চুল্লি, যা ব্যবহারের চেয়ে বেশি পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে। সাধারণ রিঅ্যাক্টরে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, আর তার উপজাত হিসেবে প্লুটোনিয়াম তৈরি হয়।
কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তিতে সেই প্লুটোনিয়ামকেই আবার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে একই জ্বালানি থেকে বেশি শক্তি পাওয়া সম্ভব হয় এবং ইউরেনিয়ামের ওপর নির্ভরতা কমে।
এটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই কারণেই যে,ভারতের কাছে বিশ্বের মোট ইউরেনিয়ামের মাত্র ১-২ শতাংশ থাকলেও থোরিয়ামের মজুত ২৫ শতাংশের বেশি। ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তি এই থোরিয়াম ব্যবহারের পথ খুলে দেয়।
ভারতের তিন ধাপের পারমাণবিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ১.প্রথম ধাপে ইউরেনিয়ামভিত্তিক রিঅ্যাক্টর ২.দ্বিতীয় ধাপে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর
তৃতীয় ধাপে থোরিয়ামভিত্তিক রিঅ্যাক্টর ৩.এই নতুন রিঅ্যাক্টর দ্বিতীয় ধাপকে কার্যকর করে তৃতীয় ধাপে যাওয়ার পথ তৈরি করছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ ভারত। দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতি ও জনসংখ্যার কারণে তাদের জ্বালানির চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে।
বর্তমানে ভারতের মোট জ্বালানি উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির অংশ মাত্র ৩ শতাংশ। তবে ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।
ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর চালু হলে—
১.কম ইউরেনিয়ামে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব
২.পারমাণবিক বর্জ্য কমবে
৩.দীর্ঘমেয়াদে থোরিয়ামনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর সহজ হবে
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ অনেক দেশ এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়া বাণিজ্যিকভাবে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর চালু করতে পেরেছে।
ভারত যদি এই প্রযুক্তিকে সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলজাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি