সিনিয়র রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হিসেবে পরিচিত মাজেদুল হক ওরফে হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে হেলালকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (Criminal Investigation Department Bangladesh) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তার জবানবন্দি নথিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।এর আগে ১৫ এপ্রিল আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল। ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
হেলাল চট্টগ্রামের “হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং” নামের একটি অস্ত্র বিক্রির দোকানের মালিক বলে জানা গেছে।ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর তার সহযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে এতে হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।
প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশের কাছে থাকলেও পরে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে বাদীর আপত্তির পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে (Criminal Investigation Department Bangladesh) হস্তান্তর করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি