| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জারুলের বেগুনিতে রঙিন রাবি ক্যাম্পাস

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ইং | ১৯:১২:৩২:অপরাহ্ন  |  ৯৫১ বার পঠিত
জারুলের বেগুনিতে রঙিন রাবি ক্যাম্পাস

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন বসন্ত ও গ্রীষ্মের মিলনমেলায় রঙিন এক স্বপ্নভূমি। চারদিকে ফুটে থাকা জারুলের বেগুনি মায়া ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এক অপার সৌন্দর্য। বেগুনি রঙের এই মুগ্ধকর ছোঁয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় সবুজ এই প্রাঙ্গণ। ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা ব্যস্ততার ফাঁকেও শিক্ষার্থীরা থমকে দাঁড়ায়, মুগ্ধ চোখে উপভোগ করে প্রকৃতির এই অনন্য সাজ।

মনভোলানো রং আর রূপের বাহার ছড়ানো অপরূপ বর্ণিল সাজের এই ফুলগুলো তাপদাহে ক্লান্ত পথিকের গতি শ্লথ করে দেয়। ক্ষণিকের জন্য ছুটে নিয়ে যায় প্রকৃতির সন্নিকটে। সবুজরঙা প্রকৃতির আবৃত ক্যাম্পাসে রঙে-সৌন্দর্যে একে অপরকে মাত দিতে জারুল-কৃষ্ণচূড়া—দুটি ফুলই প্রস্ফুটিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ক্যাম্পাসজুড়ে।

জারুল ফুল স্বমহিমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে এক মিষ্টি অধ্যায় যোগ করেছে। বৈশাখের রুদ্ররূপ ঝেড়ে ফেলে সবুজ গালিচা ভেদ করে মাথা তুলেছে বেগুনি রঙের জারুল ফুলের পাপড়ি। খালেদা জিয়া হলের পাশ দিয়ে সবুজ পাতার ক্যানভাসে বেগুনি জারুল ফুটিয়ে তুলেছে হাস্যোজ্জ্বল প্রকৃতি। রঙ আর রূপের বাহার ছড়ানো অপরূপ বর্ণিল সাজের এই ফুল সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে শোভা পাচ্ছে বেগুনি আভার জারুল ফুল। তার মাঝেই আবার উঁকিঝুঁকি মারছে হলুদ পরাগ। সবুজ পাতা, হালকা বাদামি বর্ণের বাকল আর ছয়টি মুক্ত পাপড়িতে গঠিত ও হলুদ রঙের পরাগবিশিষ্ট মায়াবি জারুলের এই মোহনীয় ছোঁয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়।

যে রঙে মুগ্ধ হয়ে কবি আহসান হাবীব তার ‘স্বদেশ’ কবিতায় জারুলের বন্দনা করেছেন ঠিক এভাবে—
“মনের মধ্যে যখন খুশি, এই ছবিটি আঁকি, এক পাশে তার জারুল গাছে, দুটি হলুদ পাখি।”

শুধু আহসান হাবীবই নন; ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দ দাশও জারুলের শৈল্পিক রূপের অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন কবিতায়। জীবনানন্দ দাশই একমাত্র কবি, যিনি কবিতায় জারুল ফুলের সৌন্দর্যকে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে বর্ণনা করে বলেছেন—
‘ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ-দুপুর—চিল একা নদীটির পাশে/
জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে।’

জারুল ফুলকে বলা হয় বাংলার চেরি ফুল। এর ইংরেজি নাম Giant crape-myrtle; বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। Lythraceae পরিবারভুক্ত মাঝারি আকৃতির এই ফুলগাছটি ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নিম্নাঞ্চলের জলাভূমিতে গাছটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে শুষ্ক অঞ্চলও এদের জন্য উপযোগী। শীতে এই নয়নাভিরাম গাছটি পাতাশূন্য হয়ে পড়ে, তবে বসন্তের শুরুতেই গাঢ় সবুজ পত্রপল্লবে ফিরে পায় তার নিজস্বতা। এর লম্বাটে পাতাগুলো পত্রদণ্ডের বিপরীতে সাজানো থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতেই থোকায় থোকায় প্রস্ফুটিত হয় বেগুনি রঙের ফুল, যা শরৎ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ফুলের পরিপূরক যে আর কিছু নেই—কবির ভাষায় তা স্পষ্ট। সবুজ পত্রপল্লবের ফাঁকে ফাঁকে শাখায় শাখায় জারুলের উচ্ছলতায় ক্যাম্পাস সেজেছে বৈশাখের রঙিন সাজে। শীত-বসন্তের শেষে গ্রীষ্মের খরতাপের মাঝেও জারুল ফুলের মায়াবি উপস্থিতি মনভোলানো আবহ সৃষ্টি করেছে। জারুল-পলাশের ছায়ায় বসে চলে শিক্ষার্থীদের আড্ডা—গিটারের টুংটাং আওয়াজে, গানের সুরে; কেউবা আবৃত্তি করছে। অনেকে গাছের ছায়ায় বসে বই সামনে নিয়ে বিভোর হয়ে গুনছে রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

সৌন্দর্য-পিপাসু বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম বলেন, “গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ স্থানীয় জাতের অনেক ফুলই ফুটছে। এসবের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ছে জারুল ফুল। একটা সময় গ্রাম-গঞ্জে, নদীপাড়ে, হাওরপাড়ে অনেক জারুল গাছ দেখা যেত। এখন সেই প্রাচুর্য না থাকলেও রাবিতে এর উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো।”

জারুল ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “এ মৌসুমে রাবির নৈসর্গিক অঙ্গনে ঝাড়লণ্ঠনের মতো পুষ্পগুচ্ছ সাজিয়ে বসেছে জারুল ফুল। বেগুনি রঙের যেন ফুলের বন্যা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে এটি যেন এক টুকরো রঙিন হিমেল হাওয়া।”

শুধু সৌন্দর্যই নয়, জারুল এখন যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে ছবি তোলা, আড্ডা আর গল্পে জমে ওঠা এই সময় শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম রঙিন অধ্যায় হয়ে থাকছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪