সিনিয়র রিপোর্টার: বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রায় ২২ মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন ও পরীক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার পরিকল্পনা করছে বিএনপি হাইকমান্ড। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে কিংবা পরে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন কমিটি ঘিরে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুব হাসান পিংকু, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাইদ ইকবাল টিটু, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামূল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল এবং কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
এদিকে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আকরামুল হাসান মিন্টু। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন্টু এমন একজন নেতা যিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পছন্দ করেন এবং সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন। তারা মনে করেন, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন; বরং সংগঠন পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন সংগঠক। দলের ভেতরে কোনো ধরনের গ্রুপিং বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রশ্রয় না দিয়ে সবাইকে একই আদর্শের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতা রয়েছে তার মধ্যে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গেও তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশব্যাপী বিভিন্ন ইউনিটকে সুসংগঠিত ও সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবদলকে আদর্শভিত্তিক, সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আকরামুল হাসান মিন্টুর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখছে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল। পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তার আপসহীন ভূমিকা এবং হামলা, মামলা ও কারাবাসের অভিজ্ঞতাও তাকে দলের কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন এবং রাজপথের আন্দোলনে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। সেই জায়গা থেকেই যুবদলের নতুন নেতৃত্বে আকরামুল হাসান মিন্টুর নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব