স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা কিংবা নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার জোর আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে আংশিক কমিটি বহাল থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আসন্ন কমিটিতে রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান তারা।
এর আগে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শরীফ উদ্দিন জুয়েলকে আহ্বায়ক এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন, তাসলিম আহসান মাসুম ও আবুল হাসান টিটুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সাজ্জাদুল মিরাজকে সদস্য সচিব করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার প্রায় ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আংশিক আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা অথবা নতুনভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় সভাপতি পদে মিজানুর রহমান রাজ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শিমুল আহমেদের নাম উঠে এসেছে। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে তারা ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতিও অর্জন করেছেন।
নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান রাজ বলেন, “তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বৃহত্তর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমার বিরুদ্ধে ২৬৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৯ বছরের সাজা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ বার কারাবরণ করেছি। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ১৪৪ ধারা ভেঙে খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনে স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম।”
অপরদিকে শিমুল আহমেদ বলেন, “জুলাইয়ের আগে কারা রাজপথে ছিল তা সবাই দেখেছেন। আশা করছি, দলীয় হাইকমান্ড যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”
এছাড়া সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, তাসলিম আহসান মাসুম, আবুল হাসান টিটু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, আমিনুল হক হিমেল, সাফায়াতে রাব্বি আরাফাত এবং মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েলের নাম।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং দলের প্রতি ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কমিটি গঠন করা হবে। যা আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিঠু/ধ্রুব