গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একমাত্র চলাচলের রাস্তায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ৯ সদস্যের দুটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি উপজেলার ঘাগটিয়ার চর খিরাটী এলাকায়। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত দুলাল মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম ও আনোয়ারুল হক গংদের সঙ্গে প্রতিবেশী মোছলেহ উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে মোছলেহ উদ্দিন মাষ্টার চলাচলের একমাত্র সরু রাস্তার পাশে ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করেন। এতে দুটি পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আলেয়া বেগমদের বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার অন্য কোনো রাস্তা নেই। ফলে ওই সরু পথই ছিল তাদের একমাত্র চলাচলের ভরসা।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন, “আমার চার সদস্যের পরিবার। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বিরোধ আরও বেড়ে যায়। ঝগড়া হলেই মোছলেহ উদ্দিন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এক বছর আগেও বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৩ সালের ২২ আগস্ট আমার স্বামীর মৃত্যু হলে জানাজার জন্য লাশ বাড়ি থেকে বের করতে ইটের দেয়াল টপকাতে হয়েছে। অন্যের কৃষিজমির ওপর দিয়েও যেতে হয়েছে। সরু রাস্তার কারণে অসুস্থ মানুষকেও কাঁধে করে বের করতে হয়েছে।”
আলেয়া বেগমের ভাষ্য, আগে ওই পথ দিয়ে সাইকেল ও রিকশা চলাচল করতে পারলেও বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন কাজেও ভোগান্তি বাড়ছে।
মৃত দুলাল মিয়ার বড় ভাই আনোয়ারুল হুদা বলেন, “রাস্তা বন্ধ থাকায় গরু-ছাগল পালনও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়িতে পশু আনা-নেওয়ার উপায় নেই।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মিলন মিয়া বলেন, “এখন আমাদের অন্যের বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।”
আলেয়া বেগমের বড় মেয়ে সামিয়া বলেন, “রাস্তা না থাকায় আমার বিয়েও নানাবাড়িতে নিয়ে করতে হয়েছে। বাবার লাশ পর্যন্ত দেয়াল টপকিয়ে জানাজার স্থানে নিতে হয়েছে এ স্মৃতি কখনও ভুলতে পারব না।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। তারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোছলেহ উদ্দিন বলেন, আমি আমার নিজের জমির সীমানায় দেয়াল নির্মাণ করেছি। বরং আমি তাদের কাছে জমি পাই। এ নিয়ে একাধিক সালিশ হয়েছে। আমার ন্যায্য হিস্যা পেলে প্রয়োজনে দেয়াল সরিয়ে দেব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল মঞ্জু বলেন, আমি একাধিক সালিশে উপস্থিত ছিলাম। তবে দেয়ালটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। চলাচলের রাস্তায় এভাবে দেয়াল নির্মাণ কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু