স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কমেছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারে। বেশিরভাগ মাছের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে কিংবা উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও একই মুরগি ১৯৫ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছিল। একইভাবে কমেছে সোনালি জাতের মুরগির দামও। বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৩০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে।
রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকায় মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা করিম উদ্দিন বলেন, ঈদের পর যখন কিনেছিলাম তখন ব্রয়লার ২০০ টাকা কেজি ছিল। আজ ১৭৫ টাকা করে কিনলাম। কিছুটা কমেছে।
একই বাজারের মুরগি বিক্রেতা আশিক রহমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সরবরাহ বেশি রয়েছে। এজন্য মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন পরিস্থিতি। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম এখনও বেশ চড়া। বর্তমানে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩๐ টাকা এবং রুই মাছ ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে মাছ ৩৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির বাজারেও রয়েছে বাড়তি দাম। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা, কই মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা এবং টাকি মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে পাঁচ মিশালি মাছও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। ইলিশের বাজারেও দামের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এছাড়া ছোট জাটকা সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়।
মাছ বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই মাছের দাম ওঠানামা করছে।
মাছ ব্যবসায়ী সফিক মিয়া বলেন, মাছের দাম সব সময় একরকম থাকে না। বাজারে বেশি মাছ এলে দাম কমে যায়। আজ পাঙাশ বেশি এসেছে, তাই ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। অন্য মাছের দাম মোটামুটি আগের মতোই আছে।
এদিকে গরুর মাংসের বাজারে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ সামনে রেখে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও অনেকেই বলছেন, মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাজার করতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম