যশোর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এই পশুহাটে প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
কোরবানিকে কেন্দ্র করে হাটজুড়ে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। কেউ গরু ও ছাগলের দড়ি হাতে ক্রেতার অপেক্ষায়, আবার কেউ পছন্দের কোরবানির পশু খুঁজছেন। এ হাট থেকে জেলার চাহিদা পূরণ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু সরবরাহ করা হচ্ছে।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১৩ হাজার ১০০টি। বিপরীতে উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ১২ হাজার ৭২৬টি পশুর। ফলে উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই।
উপজেলার বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামের খামারি আবু তাহের ভারত জানান, সরকার যদি বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আরও অনেকে এ পেশায় আগ্রহী হবেন। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও তীব্র গরমে পশু পালন কঠিন হয়ে পড়লেও পরিবার নিয়ে তিনি গরু বিক্রির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হাটে গরু কিনতে আসা বাগআঁচড়া বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “দাম একটু বেশি হলেও কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছি। পছন্দের গরু পেয়েছি, তাই কিনে নিয়েছি।”
গরু ব্যবসায়ী আবু সাঈদ জানান, এবার হাটে গরুর সরবরাহ ভালো এবং দামও সন্তোষজনক।
ছাগল ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান বলেন, “বড় ছাগলের চাহিদা বেশি। তাই বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছাগল সংগ্রহ করে হাটে এনেছি।”
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা জানান, এবারের ঈদে উপজেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভ পরীক্ষা, অসুস্থ পশুর চিকিৎসাসহ সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। কেমিক্যাল ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ করা পশু যাতে বাজারে না আসে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রয়েছে।
হাটের ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো হাট সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় এ পশুহাটে পর্যাপ্ত পশু নিয়ে খামারি ও বিক্রেতারা আসছেন। গেল কয়েকটি হাটে ক্রেতার চাপ কম থাকলেও মঙ্গলবারের শেষ হাটে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন