রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি।
বুধবার (২৭ মে) সকালে ভোলা, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁদপুর, জামালপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বহু এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসল্লিরা পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এসব অঞ্চলের নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
ভোলায় কয়েক হাজার মানুষের আগাম ঈদ
ভোলার বিভিন্ন গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। জেলা সদরসহ বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সকাল ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ির দরজায় অনুষ্ঠিত হয় প্রধান ঈদের জামাত। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।
দিনাজপুরে পৃথক ঈদ জামাত
দিনাজপুর সদরসহ জেলার ছয়টি উপজেলায় মুসল্লিদের একটি অংশ আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন। শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টার ছাড়াও চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, বিরল ও বিরামপুর উপজেলায় পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।
বগুড়ার তিন উপজেলায় আগাম ঈদ
বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আগাম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রধান জামাত।
স্থানীয়রা জানান, গাবতলীতে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হলো। তবে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে মসজিদের ভেতরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদের আনন্দ
চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। মুসল্লিরা নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় আগাম ঈদ উদযাপন। সকাল ৮টায় সাদ্রা দরবার শরীফের মাদ্রাসা মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামালপুরের ১৬ গ্রামে পৃথক জামাত
জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১৬টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন।
ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা এলাকায় বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে ৮টায় আলতাফুর রহমানের বাড়িতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সরিষাবাড়ীর বলারদিয়ার, মূলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড় গ্রামেও পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের ২৩ গ্রামে ঈদুল আজহার জামাত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে হানাফি (রা.) মাযহাবের অনুসারীরা পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার গিরদান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জামাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
এছাড়া সাদিপুর ইউনিয়নের গণকবাড়ী, পশ্চিম গজারিয়াপাড়া, রতন মার্কেট, হলদাবাড়ি, দক্ষিণ গজারিয়াপাড়া, কোনাবাড়ি উত্তরপাড়া, লস্করবাড়ি দক্ষিণপাড়া, হাতুরাপাড়া, সাদিপুর বড়বাড়ি, পূর্ব গজারিয়াপাড়া, বারদী ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া, জামপুর ইউনিয়নের আমগাঁও, বাসাবো, মুছারচর মধ্যপাড়া ও বস্তল মধ্যপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও লক্ষ্য করা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম