নীলফামারী প্রতিনিধি: কোরবানির ঈদকে ঘিরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বসেছে ব্যতিক্রমী অস্থায়ী গোশতের হাট। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ কোরবানির গোশত বিক্রি করছেন, আর স্বল্পমূল্যে সেই গোশত কিনছেন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। এমনকি গোপনে কয়েকজন হোটেল মালিককেও এই বাজার থেকে গোশত কিনতে দেখা গেছে।
প্রতি বছর ঈদের সময় সৈয়দপুর থানার সামনে থেকে ছোট রেলঘুন্টি হয়ে বড় রেলঘুন্টি পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠে এই ভ্রাম্যমাণ বাজার। ঈদের প্রথম দিন থেকেই জমে ওঠে বেচাকেনা, যা সাধারণত তিন দিন পর্যন্ত চলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ ব্যাগভর্তি গোশত নিয়ে বিক্রির জন্য আসছেন, আবার কেউ কম দামে গোশত কিনতে ভিড় করছেন। রেললাইনের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বসেছে অস্থায়ী দোকান। যারা লোকলজ্জার কারণে কারও কাছে গোশত চাইতে পারেন না, তাদের অনেকেই এখান থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোশত কিনে নিয়ে যান।
গোশত বিক্রি করতে আসা আসাফুন (৬৬) ও হিম্মত (৪৭) জানান, বিভিন্ন বাড়ি থেকে পাওয়া কোরবানির গোশত সংগ্রহ করে তারা বাজারে বিক্রি করতে এসেছেন। নিজেদের জন্য কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সংসারের অন্যান্য কাজে ব্যয় করা হয়।
বাজারে বিক্রিত গোশতের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ৫২০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে দর-কষাকষির মাধ্যমেও বিক্রি হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েক মণ গোশত বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, কম দামে গোশত কিনতে কিছু হোটেল মালিকও এই বাজারে আসেন। টার্মিনাল এলাকার এক হোটেল মালিক জানান, তিনি প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে কয়েক কেজি গোশত কিনেছেন, যা পরে হোটেলে রান্না করে বিক্রি করা হবে।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য বাজারে ডিজিটাল ওজনযন্ত্র নিয়ে বসেছেন কয়েকজন। তারা প্রতি ওজনে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, সৈয়দপুরের এই অস্থায়ী গোশতের হাট একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে স্বল্পমূল্যে কোরবানির গোশত কিনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ করে দিচ্ছে অনেক পরিবারের জন্য।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি