| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০১, ২০২৬ ইং | ১৫:২৬:১২:অপরাহ্ন  |  ৩৫৩ বার পঠিত
ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

ভাঙ্গা (ফরিদপুর)   প্রতিনিধি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কতিপয় যুবকের মধ্যে পূর্ব ঘটনার জেরে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সুমন শেখ নামে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সুমন শেখ পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে। সুমন একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন বলে তাঁর বড় ভাই জিহাদ শেখ রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের আঁধারে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের কতিপয় যুবককে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ইটপাটকেলের আঘাতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের কতিপয় যুবকের সঙ্গে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের একই বয়সী কয়েকজন যুবকের দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পৃথক দুটি গ্রামের যুবকদের মধ্যে সেই থেকে মনোমালিন্য চলছিল। উভয় গ্রামের যুবকেরা প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই যুবক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন। এ ঘটনা জানাজানি হলে রাত আটটার দিকে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের শতাধিক যুবক দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড ব্রিজের ঢালে মারমুখী অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ব্রিজের অপর প্রান্তে অবস্থান নেয় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের যুবকেরা।

উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েক দফায় ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়া চালাতে থাকে। এ সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর, বরিশাল ও মাওয়া মহাসড়কে দূরপাল্লাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতের আঁধারে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ভয়ে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

বিবদমান দুই গ্রামের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের যুবকদের লক্ষ্য করে কয়েক দফায় শর্টগান থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দ শুনে প্রতিপক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তির ছোড়া গুলিতে সুমন শেখসহ আরও তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।

সংঘর্ষকালে গুলির ঘটনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজন মহাসড়ক দখল করে মিছিল ও স্লোগান দেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। গুলিবর্ষণের খবরে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের শত শত মানুষ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে অবস্থান নেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও বিক্ষোভকারীরা তা মানেননি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে দুটি গ্রামের যুবকদের মধ্যে মনোমালিন্য থেকে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪