স্পোর্টস ডেস্ক: দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মরক্কো। এই জয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পর এবারও শেষ আটে উঠে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল তারা।
প্রথমার্ধে মরক্কোকে চাপে রেখেছিল কানাডা। জেসি মার্শের দল আগ্রাসী প্রেসিংয়ে উত্তর আফ্রিকার দলকে বেশ ভোগায় এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করে। তবে বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৫০তম মিনিটে আক্রাফ হাকিমির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে আজেদিন উনাহি গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন। এরপর ৮২তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে গোল করে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন সুফিয়ান রহিমি।
প্রথমার্ধে মাত্র একবার প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শ করেও দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগায় মরক্কো। পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিয়েই তিন গোল করেছে তারা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ী কোনো দলের এত কম শট নিয়ে জয়ের ঘটনা বিরল।
মরক্কোর নতুন কোচ মোহাম্মদ উয়াহবির অধীনে দলটি আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের স্থলাভিষিক্ত হন। রেগরাগুই ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোকে ঐতিহাসিক সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। তবে উয়াহবির অধীনে দলটি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে আরও ভালো ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই ম্যাচে পুরোনো মরক্কোকেই দেখা গেছে। শক্তিশালী রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণ—এই কৌশলেই তারা কানাডাকে পরাস্ত করেছে। প্রথমার্ধে ছন্দে থাকা মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি চোটে মাঠ ছাড়লেও তাতে ভেঙে পড়েনি দলটি।
কানাডা শুরুতে দারুণ লড়াই করলেও মরক্কো গোল করার পর ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের লিড অক্ষুণ্ন রাখেন। এরপর উনাহির জোড়া গোল এবং রহিমির শেষ মুহূর্তের গোল নিশ্চিত করে মরক্কোর বড় জয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোচের আক্রমণাত্মক দর্শনের সঙ্গে আগের কোচ রেগরাগুইয়ের গড়ে দেওয়া দৃঢ় রক্ষণভিত্তিক কাঠামোর সমন্বয়ই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই দলটি এবারও বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।