স্পোর্টস ডেস্ক: আর্লিং ব্রাউট হলান্ড এখন শুধু একজন স্ট্রাইকার নন তিনি নরওয়ের ফুটবলের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের প্রতীক। ২০০০ সালের ২১ জুলাই ইংল্যান্ডের লিডসে জন্ম নেওয়া এই গোলমেশিন ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সঙ্গে পরিচিত হন, কারণ তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ডও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। শৈশবের কিছু সময় ইংল্যান্ডে কাটালেও তিনি বড় হন নরওয়ের ব্রাইন শহরে, যেখানে তার ফুটবল যাত্রার শুরু।
স্থানীয় ক্লাব ব্রাইন এফকে থেকে উঠে এসে তিনি দ্রুতই ইউরোপের নজরে আসেন। অস্ট্রিয়ার রেড বুল সালজবুর্গে তার বিস্ফোরক পারফরম্যান্স ইউরোপিয়ান ফুটবলে আলোড়ন তোলে। এরপর বরুশিয়া ডর্টমুন্ড হয়ে তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন, যেখানে তিনি আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলস্কোরারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
হলান্ডের শক্তি, গতি, পজিশনিং এবং ফিনিশিং তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। কম বয়সেই তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ একাধিক বড় শিরোপা জিতেছেন এবং একাধিক গোল রেকর্ড ভেঙেছেন। ক্লাব ফুটবলে তার গোলসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়লেও নরওয়ের জার্সিতে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল দেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের অপেক্ষা ভাঙা।
নরওয়ে ফুটবল ইতিহাসে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য ছিল বিরল। দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিতভাবে জায়গা করতে না পারা এই দেশ এখন হলান্ডকে কেন্দ্র করে নতুন স্বপ্ন দেখছে। তার সঙ্গে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
হলান্ড এখন নরওয়ের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তিনি সবচেয়ে বড় হুমকি। তার উপস্থিতিই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে এই বিশ্বাস এখন কোচ থেকে শুরু করে সমর্থক সবার মধ্যেই রয়েছে। বিশ্বকাপে নরওয়ের সম্ভাবনা যতটা এগিয়েছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে হলান্ড।
তবে এই যাত্রা শুধু পরিসংখ্যানের নয়, এটি একটি দেশের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার গল্পও। নরওয়ে ফুটবলে শত বছরের ইতিহাসে বড় কোনো বৈশ্বিক সাফল্য না থাকলেও হলান্ডের উত্থান সেই চিত্র বদলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমর্থকরা এখন তাকে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং “নতুন ইতিহাস লেখার মানুষ” হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে হলান্ডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বড় মঞ্চে নিজের প্রভাব আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা। ক্লাব ফুটবলে তিনি যা করেছেন, সেটাই এবার দেশের হয়ে বিশ্বকাপে করতে পারলে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লেখা হবে।
হলান্ডের গল্প তাই শুধু গোলের গল্প নয় এটি এক দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার, স্বপ্নের এবং সম্ভাবনার গল্প। এখন প্রশ্ন একটাই, তিনি কি নরওয়েকে সেই অপ্রাপ্য শিখরে পৌঁছে দিতে পারবেন, যেখানে এতদিন শুধু বড় দলগুলোর নামই লেখা ছিল?
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব