বাগেরহাট প্রতিনিধি: ১১ বছর আগে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা জেলে পল্লীর নিয়ামুল হোসেন। এরপর কেটে গেছে এক যুগের কাছাকাছি সময়, কিন্তু এখনও ছেলের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগম।
প্রতিদিন ঘরের কোণে রাখা ছেলের ছবির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকেন তিনি। এরপর তাকিয়ে থাকেন দরজার দিকে—যদি কোনো দিন ছেলে ফিরে এসে ডাক দেয়, ‘মা, আমি এসেছি।’
২০১৫ সালে জীবিকার তাগিদে অন্য জেলেদের সঙ্গে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী নিয়ামুল। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কোনো এক সময় তিনি নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা ফিরে এলেও নিয়ামুল আর ফেরেননি।
নিয়ামুলের ছোট ভাই বাশার বলেন, ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের পরিবারের জীবন বদলে গেছে। বহু খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দরজায় শব্দ হলেই মা মনে করেন, হয়তো নিয়ামুল ফিরে এসেছে।
বৃদ্ধ বাবা শুকুর আলী বলেন, ছেলেকে হারানোর কষ্ট আজও কমেনি। বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। জীবনের শেষ সময়ে তার একমাত্র চাওয়া—মৃত্যুর আগে অন্তত ছেলের কোনো খবর পাওয়া।
মা রোকেয়া বেগম বলেন, ১১ বছর হয়ে গেছে, তবুও বিশ্বাস করি আমার ছেলে কোথাও বেঁচে আছে। প্রতিদিন তার জন্য অপেক্ষা করি। মৃত্যুর আগে একবার তাকে দেখতে চাই।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ১১ বছরেও তারা কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসন সুবিধা পাননি। বর্তমানে ছোট ছেলের সীমিত আয়ে কোনো রকমে চলছে বৃদ্ধ দম্পতির সংসার।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাগরে হারিয়ে যাওয়া নিয়ামুলের পরিবার আজও অপেক্ষার প্রহর গুনছে। সময় পেরিয়ে গেলেও বৃদ্ধ মা-বাবার চোখে ছেলের ফিরে আসার আশার আলো এখনও নিভে যায়নি।