রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের কার্যক্রম, প্রমাণভিত্তিক ফলাফল ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে এসব অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষকে প্রাণ হারাতে না হয়—এ লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দুর্গম এলাকাগুলো থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় স্থাপিত ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি++)-এর আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত ও ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
আলো ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃ ও নবজাতক সেবা, শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এসব ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন।
এছাড়া চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন স্বাভাবিক প্রসব কেন্দ্র চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় আলো ক্লিনিক মডেলের চার বছরের বেশি সময়ের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং সুইডেন সরকারের অর্থায়নে ইউনিসেফ ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলটি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম