নরসিংদী প্রতিনিধি: রাত তখন গভীর। নরসিংদীর মাধবদীর বলবর্দী এলাকার মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে হানা দেয় একদল সশস্ত্র ডাকাত। কিন্তু নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ বিলিয়ে না দিয়ে ডাকাতদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী এই গৃহকর্তা। আর এই সাহসিকতার চরম মূল্য দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ঘটনাস্থলেই চিরতরে চোখ বুজলেন শাহজাহান মিয়া।
গতকাল শুক্রবার গভীর রাতের এই বর্বরোচিত ঘটনায় কেবল এক প্রাণহানিই ঘটেনি, ডাকাতদের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য সুরুজ মিয়া (৭০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক গভীর ভাগে ৮ থেকে ১০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল শাহজাহান মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করে বাধা দিতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ডাকাতরা। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে বাড়ির সদস্যদের। গৃহকর্তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো পরিবার। এরপর প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল বস্তাবন্দী করে চম্পট দেয় ডাকাত দল।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
তবে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পেছনে প্রশাসনের চরম গাফিলতি দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর মাত্র ১০ দিন আগে, গত ১০ জুলাই মাধবদীর কাঠালিয়া এলাকায় একরাতেই তিনটি বাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ—পূর্বের ওই দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ডাকাতরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যার খেসারত দিতে হলো ব্যবসায়ী শাহজাহানের প্রাণ দিয়ে। এলাকায় এখন তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি বিরাজ করছে চরম ডাকাত-আতঙ্ক।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি