| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ‘পালানো’ ঠেকাতে কারাগারে কুমির রাখবে ইসরায়েল, আইন সংশোধন

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৮, ২০২৬ ইং | ১২:৫৫:০৩:অপরাহ্ন  |  ৩৩০ বার পঠিত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ‘পালানো’ ঠেকাতে কারাগারে কুমির রাখবে ইসরায়েল,  আইন সংশোধন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  ফিলিস্তিনি বন্দিদের চারপাশ থেকে ঘিরে রাখার জন্য কুমির-বেষ্টিত একটি বিশেষ বন্দিশালা বা কারাগার নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইসরায়েল। এই লক্ষ্যে নীল নদের কুমিরকে দেওয়া বিশেষ সংরক্ষিত প্রাণীর মর্যাদা বা আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদ ওয়েবসাইট 'ওয়াইনেট'-এর বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলম্যান একটি ডিক্রিতে (অধ্যাদেশ) সই করেছেন। এর মাধ্যমে নীল নদের কুমিরকে 'বিশেষ ব্যবস্থাপনার বন্যপ্রাণী' (স্পেশালি ম্যানেজড ওয়াইল্ড অ্যানিমেল) হিসেবে নতুন আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন আইনি ক্যাটাগরির আওতায় রাষ্ট্র চাইলেই নিরাপত্তার স্বার্থে বা বিশেষ উদ্দেশ্যে এই হিংস্র প্রাণীগুলোকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে।

বিবৃতিতে মন্ত্রী সিলম্যান বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাদের হেফাজতে কুমির রাখতে পারবে।

ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

মূলত ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের কয়েক মাসের তীব্র চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য চারপাশ থেকে কুমির দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষ কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস)-এর তদারকির দায়িত্বে থাকা বেন গভির জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বিতর্কিত ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার 'অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

এর আগে 'ইসরায়েল প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ' (আইএনপিএ)-এর কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কুমিরগুলোকে কেবল শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যেই খাঁচায় বন্দি রাখা উচিত। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা নেটা ডোরিও এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এই প্রস্তাবের কোনো পর্যাপ্ত আইনি ও পেশাদার ভিত্তি নেই।

আইপিএস অবশ্য দাবি করেছিল যে 'অ্যাটাক ডগ' বা আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের কর্মীরা সহজেই কুমির সামলাতে পারবে। তবে নেটা ডোরি এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে লেখেন, 'আইপিএসের কাছে কুমিরের মতো বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী লালন-পালনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা নেই।' ফলে এই ঘোষণার আইনি শর্ত পূরণ হয়নি বলে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তা সত্ত্বেও পরিবেশমন্ত্রী সিলম্যান চলতি সপ্তাহে এই বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন কট্টরপন্থী মন্ত্রী বেন গভির। পোস্টে তিনি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি নিজের একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি শিকল দিয়ে একটি কুমিরকে বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'কুখ্যাত সন্ত্রাসী, পালানোর কথা ভাবছ? আরেকবার ভাবো।'

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে বেন গভিরের অধীনে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন, অনাহার এবং অমানবিক আচরণ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে এবং কিছু বন্দিশালাকে সরাসরি 'টর্চার ক্যাম্প' বা নির্যাতন শিবির হিসেবে অভিহিত করেছে।

পরিবেশমন্ত্রী সিলম্যানের এই সিদ্ধান্ত আইএনপিএ এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি কুমির ও সাধারণ মানুষ—উভয়কেই বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

আইএনপিএ জানিয়েছে, নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে কুমির রাখার অনুমতি দেওয়ার মতো কোনো 'পর্যাপ্ত পেশাদার ভিত্তি' নেই। বন্যপ্রাণী সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, কারাপ্রাঙ্গণে কুমির নিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং তাদের সন্দেহ রয়েছে যে কারা কর্তৃপক্ষ এই প্রাণীদের যথাযথ যত্ন নিতে পারবে কি না।

এক যৌথ বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন বলেছে, 'আমরা পাহারাদারি ও ভয় দেখানোর মাধ্যম হিসেবে বন্যপ্রাণী ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করছি। কুমির একটি সংবেদনশীল প্রাণী, যাদের বাসস্থান, পানি, তাপমাত্রা এবং স্বাভাবিক আচরণের জন্য একটি জটিল জীবনব্যবস্থা প্রয়োজন।' তারা জেলের নিরাপত্তার জন্য বন্যপ্রাণী ব্যবহারের পরিবর্তে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান।

তারা এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, শীতকালে কুমিরের মেটাবলিক রেট ধীর হয়ে যায়, তারা অত্যন্ত অলস হয়ে পড়ে এবং খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে শীতকালে পাহারাদার হিসেবে এদের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, 'নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বাস্তব উপায়ে, বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে নয়।'

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে ইসরায়েলে নীল নদের কুমিরকে একটি সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে সেখানে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য কিছু কুমিরের খামার পরিচালিত হতো। তবে দর্শনার্থী কমে যাওয়ায় অনেকে চামড়া বিক্রির জন্য কুমির প্রজনন শুরু করেন।

গত বছর অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতির খামার থেকে ২৫০টিরও বেশি সংরক্ষিত নীল নদের কুমির মেরে ফেলেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পশুকল্যাণ সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে সংরক্ষিত প্রাণী নিধন হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

রিপোর্টাস২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪