| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছেন মামদানি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৯, ২০২৬ ইং | ১০:৩৩:৫১:পূর্বাহ্ন  |  ৪২৫৪ বার পঠিত
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছেন মামদানি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে গেলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। শনিবার 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে মামদানি পুনর্ব্যক্ত করেন যে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া নেতানিয়াহুর বিচার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর গন্তব্য হওয়া উচিত হেগ (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত)। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই আমার মতো এই একই মত পোষণ করেন।'

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ও ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট নেতা মামদানি তার মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও অঙ্গীকার করেছিলেন যে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তখন অনেকেই তার এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

মামদানি জানান, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক ভ্রমণে এলে তাকে গ্রেপ্তার করার আইনি এখতিয়ার মেয়রের আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। মামদানি বলেন, 'নিউইয়র্ক সিটির আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা ঠিক তা-ই করব। তবে এ জন্য আমরা নিজস্ব কোনো আইন তৈরি করব না।'

তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বানের বিষয়ে নেতানিয়াহু সিড রোজেনবার্গ নামের এক মার্কিন রেডিও ব্যক্তিত্বকে জানান, তার মনে হয় মামদানি মনে মনে 'আমেরিকাকে ঘৃণা করেন'। তবে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জোর দিয়ে বলেছেন যে গ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচনী প্রচারের সময় জোহরান মামদানি প্রায়ই ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি রোজেনবার্গ এক সময় তাকে 'তেলাপোকা' বলেও অভিহিত করেছিলেন, যদিও পরে তিনি ক্ষমা চান। বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির মেয়র নির্বাচিত হওয়া এবং নেতানিয়াহুর জবাবদিহি চাওয়ার এই অনড় অবস্থান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েল নিয়ে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত মে মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটারদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে, যা তিন বছর আগে ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন যে তাদের দল ইসরায়েলকে অনেক বেশি সমর্থন দিচ্ছে। অথচ গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধকে এখন অনেক মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভোটারদের এই মানসিকতা এখনো শীর্ষ পর্যায়ে বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তন না আনলেও ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদরা ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলে সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল অকল্পনীয়।

রিপোর্টার্স২৪/এম 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪