ইন্টারন্যাশনাল: ডেস্ক: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি অনুযায়ী ইরানে হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থানে বিস্ফোরণ থেকে ধোঁয়া উড়ছে; ১৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি হ্যান্ডআউট ভিডিও থেকে নেওয়া দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাকে হত্যার জেরে ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একে 'তৎক্ষনাৎ শাস্তি' (সুইফট পানিশমেন্ট) হিসেবে অভিহিত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরকে 'সম্পূর্ণ মূল্যহীন' বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের জেরে এই নতুন দফার হামলা শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। গত মার্চের পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যু হলো। এ নিয়ে চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর মোট ১৬ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারালেন। এ ছাড়া সর্বশেষ হামলার পর থেকে আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
শনিবার সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রাণহানিকে 'অত্যন্ত দুঃখজনক' বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমরা এমন ঘটনা দেখতে চাই না। তারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।'
মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় ইরানের লজিস্টিক অবকাঠামো, অস্ত্রাগার এবং অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনাই এই অভিযানের লক্ষ্য। এ নিয়ে টানা আট দিন ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প কয়েক দিন আগে ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সেন্টকম এখন পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত করেনি।
এদিকে শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়। এতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে 'মহাশয়তান' অভিহিত করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করায় এটি সবার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের এখন আর কোনো মূল্য বা বৈধতা নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, '"মহাশয়তান"টা (যুক্তরাষ্ট্র) বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে আবারও সবার সামনে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের এখন আর কোনো মূল্য বা বৈধতা নেই। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করেছে যে—দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ এবং বর্বরতা হলো মার্কিন নীতি ও আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ।'
এতে আরও বলা হয়, 'শত্রু আমেরিকা এখন যুদ্ধ বাধাতে চাইছে এবং আরও ভারী ক্ষয়ক্ষতি ও চরম অপমানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তবে তাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরানের জনগণ এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট তাদের এমন শিক্ষা দেবে যা তারা কোনোদিন ভুলবে না।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ