| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, নেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৩, ২০২৬ ইং | ১৪:১৫:৩৪:অপরাহ্ন  |  ১০৭৮ বার পঠিত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, নেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। শারীরিক কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক সূত্রে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে আগ্রহী। সূত্রটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। পরে চলতি বছরের ১২ মে যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়লে জরুরি ভিত্তিতে তার এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগতভাবে সম্মানজনক প্রস্থানের পক্ষে থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের নিজস্ব সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিবেচনা রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনার ওপরও নির্ভর করবে।

এদিকে বিএনপি ও সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে দলটির উচ্চপর্যায় থেকে ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল থাকেন। ওই সময় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আইন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিলেও রাষ্ট্রপতির পদে তিনি বহাল রয়েছেন। ফলে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির পাশাপাশি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

তবে সম্ভাব্য পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—কোনো বিষয়েই এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন, সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনও আলোচনা ও রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪