| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল তেলের দাম

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৭, ২০২৬ ইং | ১০:৪২:১৬:পূর্বাহ্ন  |  ২২৩৫ বার পঠিত
আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল তেলের দাম

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহে টানা দাম বাড়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা অব্যাহত রয়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেল সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় বাজারের বিনিয়োগকারীদের নজর এখনো হরমুজ প্রণালি ও সংশ্লিষ্ট তেল অবকাঠামোর দিকে। খবর রয়টার্সের।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ২৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৪ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ২৬ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে কি না এবং তেল পরিবহনে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে কি না, সেদিকেই এখন বাজারের নজর বেশি।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিলিপ নোভা-এর মার্কেট ইনসাইটস প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবার মতে, আগস্টের শুরুর দিকে তেলের দামে যে পতন হয়েছিল, তা থেকে বাজার প্রায় পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবও আবার বাড়ছে।

তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে স্পষ্টতার অভাব তেলের বাজারে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সংঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম আরও বড় ধরনের বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা সচদেবা। তাঁর মতে, বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুধু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা যথেষ্ট নয়; তেল সরবরাহব্যবস্থায় বাস্তব ও উল্লেখযোগ্য ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কাও তৈরি হতে হবে।

রয়টার্সকে তিনি জানান, বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত না ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।

এদিকে গত সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির পর সোমবারের লেনদেনে ব্রেন্টের দাম স্থির থাকা এবং ডব্লিউটিআইয়ের সামান্য কমে যাওয়াকে বাজারে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিনিয়োগকারীরা একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, অন্যদিকে তেল সরবরাহে বাস্তব কোনো সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাব-নিকাশ করছেন।

ফলে আগামী দিনগুলোতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির ওপরই আন্তর্জাতিক তেলের দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪