রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিচার বিভাগের আওতাধীন বিচারকদের জন্য যেমন পৃথক পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো রয়েছে, ভবিষ্যতে একইভাবে শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল প্রণয়নের বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথভাবে সমন্বয় করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো করার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।
তিনি বলেন, পে-স্কেল ১১ বছর পর হতে যাচ্ছে। হঠাৎ করে এটি ইনফ্লেশনের (মূল্যস্ফীতি) সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) হয়নি। এ উপলব্ধি প্রধানমন্ত্রীর ছিল এবং আমরা ক্যাবিনেট মিটিংয়েও তা দেখেছি। সেই জায়গা থেকে আমরা আগামী দিনের চিন্তা করছি।
বিচারকদের জন্য বিদ্যমান পৃথক পে-স্কেলের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেভাবে বিচার বিভাগে আলাদা পে-স্কেল রয়েছে, তেমনিভাবে আমরাও শিক্ষকদের জন্য একটি চিন্তাভাবনা করছি। সেটা করা হবে।
তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ধীরে ধীরে এগোনোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এত অল্পসময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি রাজনৈতিক সরকার পারছে না; এটা আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আমরা ধীরে ধীরে সেদিকে এগোব।
এদিকে শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
সরকারের এ নীতিগত উদ্যোগকে দেশের শিক্ষকসমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত ও সার্বজনীন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম