| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পিলখানার ঘটনায় চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ইং | ২০:৫৯:২১:অপরাহ্ন  |  ৬০৮ বার পঠিত
পিলখানার ঘটনায় চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ কারণে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুল ওয়ারেছের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচার করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্তান্তে প্রদান করা হয়েছে এবং কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, বিধায় বর্ণিত চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।

ঢাকা শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনতে প্রকল্প পুনর্গঠন

জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে নেওয়া প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।

সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম, ১৪ বোতল এলএসডি, ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে এসব অভিযানে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে।

মাদক চোরাচালান রোধে বিমান, নৌবন্দর ও বাস টার্মিনালে স্ক্যানার

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযান জোরদার করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দরসমূহ, নৌবন্দর মোংলা এবং বাস টার্মিনালগুলোতে স্ক্যানার ও এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ডগ স্কোয়াড, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সার্কেল স্থাপনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে অফিস ভবন নির্মাণের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত যানবাহন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও আধুনিক সরঞ্জাম কেনা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে রাসায়নিক পরীক্ষাগার বা কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা সহজ করতে গুরুত্বারোপ

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, দূতাবাস পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। তাই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে অবহিত করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমানে ৬৩টি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৮৬টি মিশন প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এসব ক্যাম্পে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের স্থান, তারিখ ও সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচারণা চালানো হয়। ফলে দূতাবাস থেকে দূরে বসবাসকারী প্রবাসীরাও সহজে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

জামালপুর-৩ আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি দেশে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৬২টি দূতাবাস ও হাইকমিশন এবং ২৪টি কনস্যুলেট, উপ-হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন ও স্থায়ী মিশন রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের ফেস রিডিং করে প্রবেশের অনুরোধ

সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় সংসদ সদস্যদের ফেস রিডিং ডিভাইসে মুখমণ্ডল শনাক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোন হ্যাক করে জরুরি টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানানো এবং ভয়েস ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একটা ফেস রিডিং ডিভাইস আছে। আমাদের সব লবিতে ফেস রিডিং করা হয়। তো আমি মাননীয় সকল সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করবো, যাতে প্রত্যেকে ফেস রিডিং করে হাউজে ঢোকেন।’

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘সিগনেচারকে টেম্পার করে একটা কাগজ হাজির করছে, সেটাও প্রবলেম হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যের হয়েছে, সরকারি দলের অনেক সদস্যের হয়েছে। কাজেই এই ব্যাপারেও সচেতন হওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪