| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এনসিপি ‘কিংস পার্টি’, তাদের দুজন সরকারে : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৪, ২০২৫ ইং | ১২:৫৪:১৩:অপরাহ্ন  |  ১৬৭৯১২৫ বার পঠিত
এনসিপি ‘কিংস পার্টি’, তাদের দুজন সরকারে : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক

সিনিয়র রিপোর্টার : গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত হওয়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে  এ কথা বলেন তিনি। ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি।

এই কিংস পার্টি কারা, এ প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা সবাই জানে যে- এনসিপি হচ্ছে এই কিংস পার্টি। কারণ তাদের সহযোগী এখন সরকারের দুজন উপদেষ্টা রয়েছেন, আবার একজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করে এ দলে যুক্ত হয়েছেন। সে হিসেবে কিংস পার্টি।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দল বা কিংস পার্টি গঠন করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দল গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত, জনগণের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ রাজনীতি শক্তি হিসেবে বিকশিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অর্থের উৎসের অস্বচ্ছতা, দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়মের বিদ্যমান সংস্কৃতি ধারণ করে আত্মঘাতী পথে ধাবিত হচ্ছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রা অশুভ ছিল। ওই দিন বিকেল থেকেই বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের একাংশ দলবাজি, চাঁদাবাজি, মামলা-বাণিজ্য শুরু করে এবং গত এক বছর ধরে তা আরও বেড়েছে। এমনকি দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নিয়েও তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এর ফলে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের জন্মলগ্ন থেকে একই রোল মডেল অনুসরণ করেছে। 

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১২১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এসব রাজনৈতিক সহিংসতার ৯২ শতাংশের সঙ্গে বিএনপি, ২২ শতাংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ৫ শতাংশের সঙ্গে জামায়াত এবং ১ শতাংশের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি জড়িত ছিল বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সিলেটের কোয়ারি ও নদ-নদী থেকে পাথর লুটপাট; সেতু, বাজার, ঘাট, বালুমহাল, জলমহাল ইত্যাদির ইজারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। করা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক মামলা।

‘মব’ তৈরি, সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন, থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হয়েছে বলে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “সাংবাদিক লেখক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অন্তত ১৫০ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছে। মব তৈরি করে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। ২৪ জনের বেশি গণমাধ্যম কর্মীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ১১ টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধান বরখাস্ত হয়েছেন। ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামি করা হয়। তিনজন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার’ বিতাড়িত হলেও দলীয়করণের সেই ধারাবাহিকতা প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিচার ব্যবস্থাসহ সব জায়গায় অব্যাহত রয়েছে। 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪