| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এনসিপি নেতাদের চড়ামূল্য দেওয়া লাগতে পারে: আনোয়ার চৌধুরী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৩, ২০২৫ ইং | ১৮:৪০:৩৬:অপরাহ্ন  |  ১৬২৭৫৫৫ বার পঠিত
এনসিপি নেতাদের চড়ামূল্য দেওয়া লাগতে পারে: আনোয়ার চৌধুরী
ছবির ক্যাপশন: আনোয়ার চৌধুরী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যের কারণে ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদেরকে চড়ামূল্য দেওয়া লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক আনোয়ার চৌধুরী। 

তিনি মনে করেন, তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল এনসিপির তরুণ নেতারা বিষয়টি এখনও অনুধাবন করতে পারছেন না।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিজের  ফেসবুক পোস্টে এই অভিমত জানান। 

স্ট্যাটাসে আনোয়ার চৌধুরী  লেখেন, অল্প কয়েকদিনের নিষ্ক্রিয়তাশেষে অতিমাত্রায় সরব দেখা যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত নেতা নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহকে। এবার তারা ঐক্যবদ্ধভাবেই তীর্যক মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরকে (ডিজিএফআই) নিয়ে। ১২ আগস্ট ঢাকায় ‘জাতীয় যুব সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এনসিপির এই তিন নেতা ডিজিএফআইকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

তিনি আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে নিয়ে ইতিপূর্বে প্রকাশ্যে তীর্যক মন্তব্য করার রেকর্ড খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এক্ষেত্রে এনসিপি নেতারাই ব্যতিক্রম হতে পারে। তাদের এসব বক্তব্য সাহস, দুঃসাহস নাকি ধৃষ্ঠতা, তার উত্তর এখনই মেলানো কঠিন। তবে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের পর জনমনের বিভ্রান্তি দূর করতে ডিজিএফআই কিংবা আইএসপিআর’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বিভ্রান্তি বাড়তে পারে।’

এনসিপি নেতাদের বক্তব্য হুবুহু উল্লেখ করে আনোয়ার চৌধুরী লিখেছেন, ১২ আগস্টের অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বসেই করতে হবে। এই দলগুলো ব্যর্থ হলে লাভবান হবে ডিজিএফআই, লাভবান হবে অরাজনৈতিক শক্তি।’ একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, ‘একটা গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের ডিজিএফআই। আপনার আমার পকেটের টাকায় চলাফেরা করে। তারা কত টাকা খরচ করে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারবে না। তাদের কোনো কোথাও দায়বদ্ধতা নাই, অ্যাকাউন্টিবিলিটি (জবাবদিহি) নাই, ট্রান্সপারেন্সি নাই, তাদের একটাই কাজ— মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে, যে কিছু বলবি আয়নাঘরে নিয়ে আসব। আরে আয়নাঘর তো আমরা ভেঙে দিয়েছি। সামনে যদি আয়নাঘর প্রচেষ্টা করা হয়, আমরা সে আয়নাঘর কেন ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টার ভেঙে দিব।’ যথেষ্ট সহ্য করেছেন উল্লেখ করে পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি ডিজিএফআই থাকতে হয়, অবশ্যই এটা সংস্কার করতে হবে।’ একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘ডিজিএফআইয়ের অর্থ কখনো হিসাব করা হয়না। এই প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করুন, প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করুন। সকল মিলিটারি অর্গানাইজেশনকে বাংলাদেশপন্থী হিসেবে গড়ে তুলুন।’

 জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক আরও লেখেন, রাষ্ট্রের অন্যতম গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে নিয়ে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যকে অতীতের মতো হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না। বিশেষ করে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী ‘দলগুলো ব্যর্থ হলে লাভবান হবে ডিজিএফআই’, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘যথেষ্ট সহ্য করেছেন’ এবং হাসনাত আবদুল্লাহর ‘প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করুন’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জরুরি। তিনি আরও লেখেন, কেনো লাভবান হবে ডিজিএফআই, যথেষ্ট কী সহ্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং কী সংস্কার না করলে নিষিদ্ধ করতে হবে ডিজিএফআইকে, এসব বিষয় এনসিপি নেতাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ কিংবা তথ্য থাকলে তা খোলাসা করতে হবে। তা না হলে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে সাময়িক বাহবা মিললেও এসবের সূদূরপ্রসারী ফলাফল শুভ নাও হতে পারে। ডিজিএফআইকে নিয়ে মন্তব্যের কারণে ভবিষ্যতে চড়ামূল্য দেওয়া লাগতে পারে এনসিপিকে। তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দলের এসব তরুণ নেতারা বিষয়টি এখনও অনুধাবন করতে পারছেন না।

রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪