রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর হতে যাওয়া এ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্যানেলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরই মধ্যেই ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বাগছাস সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বামপন্থীদের প্রার্থী সঙ্কট, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ছাত্র ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের বিভাজন এবং সাংস্কৃতিক জোটের ভাঙনের ফলে তারা ৩টি ভিন্ন প্যানেল ঘোষণা করেছে।
বামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে জাবিতে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রয়েছে দুটি অংশ। অদ্রি অংকুর ও ফাইজান আহমেদ অর্কের নেতৃত্বে রয়েছে একটি অংশ এবং জাহিদুল ইসলাম ইমন ও তানজিম আহমেদের নেতৃত্বে রয়েছে অপর অংশ। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রয়েছে দুটি সংগঠন, একটি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) এবং আরেকটি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (লেনিনবাদ)।
এ ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের রয়েছে দুটি অংশ। এ বছরের ১৯ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের তৎকালীন সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি কমিটি ধরে রাখা, ঐতিহাসিক পরাক্রম ও স্বকীয়তা রক্ষায় অপারগতা, নির্বাচনের সময় নির্দিষ্ট প্রার্থীদের ট্যাগিং করে তাদের নামে অপপ্রচার, গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক আন্দোলন সংগ্রামে নীরবতা, অন্যায়কে ধামাচাপা দেয়াসহ নানা অভিযোগ এনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে জোটভুক্ত দুটি সংগঠন। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর জোট ভেঙে গঠিত হয় আলাদা দুটি কমিটি। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্যানেল ঘোষণার কথা থাকলেও তিনটি আলাদা প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন (অদ্রি-অর্ক) একাংশের সমর্থনে গঠিত হয়েছে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক জোটের একটি অংশ যুক্ত হয়েছে। এ প্যানেলে ভিপি পদে রয়েছেন প্রতœতত্ত বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের অমর্ত্য রায়, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শরন এহসান।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে নুর এ তামীম স্রোত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ফারিয়া জামান নিকি, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে সুকান্ত বর্মন, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সম্পাদক পদে সোমা ডুমরী, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আতিকুর রহমান জনি। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রাহাতুল ফেরদৌস রাত্রি, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মায়মুনা বিনতে সাইফুল, নাট্য সম্পাদক পদে ইগিমি চাকমা, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী) পদে প্রত্যাশা ত্রিপুরা এবং সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ) পদে রেংথ্রি ম্রো, তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মো. মাহফুজ আহমেদ, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক পদে আবরার হক বিন সাজেদ, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক (নারী) পদে মায়িশা মনি, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ) পদে মো. তাজুন ইসলাম, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক পদে লাবিবা মুবাশশিরা ইশাদি এবং পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে সীমান্ত বর্ধন মনোনীত হয়েছেন। এ ছাড়াও কার্যকরী সদস্য (নারী) পদে আরিফা জান্নাত
ছাত্র ইউনিয়নের (ইমন-তানজিম) একাংশ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সমর্থনে গঠিত হয়েছে ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ প্যানেল। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। তবে প্রার্থী সঙ্কটের কারণে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে পারেনি তারা। ২৫টি পদের মধ্যে ২০ পদ শূন্য রেখে আংশিক প্যানেল ঘোষণা করা হয়।
প্যানেলে জিএস পদে রয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি (একাংশ) জাহিদুল ইসলাম ইমন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে সৈয়দ তানজিম আহমেদ, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে তানজিল আহমেদ এবং সহ-সমাজসেবা ও মানব উন্নয়ন সম্পাদক (নারী) পদে সাদিয়া ইমরোজ ইলা মনোনীত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের অপর অংশ ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে গঠিত হয়েছে তৃতীয় একটি প্যানেল। শনিবার বিকেলে বিশ^বিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটি ঘোষণা করা হয়। এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের মুখপাত্র মো. মাহফুজুল ইসলাম মেঘ। প্যানেলে সহ-সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে মো. নাজমুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে সৈয়দা মেহের আফরোজ শাঁওলি, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাহিদুল ইসলাম শিমুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে সাদিয়া রহমান মোহনা, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শেখ আল ইমরান, নাট্য সম্পাদক পদে তপু চন্দ্র দাস এবং পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শাশ্বত পিকে মনোনীত হয়েছেন।
অপর দিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (লেনিনবাদ) সংগঠন সজিব আহমেদ জেনিচের সাথে দীর্ঘদিন ছাত্র ইউনিয়নের (অদ্রি-অর্ক) একাংশের সাথে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে একসাথে থাকলেও নির্বাচনকালীন সময়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন তিনি। শনিবার রাত ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এ সময় জেনিচ বলেন, আমরা বামপন্থীদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চেয়েছিলাম, কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের একটি অংশ রাজি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
সমাজিকতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সংগঠক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদপ্রার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, আমরা চেয়েছিলাম প্রগতিশীল ও মুক্তমনা সংগঠনগুলোর সাথে বৃহৎ জোট গঠন করে প্যানেল ঘোষণা করার কিন্তু বিভিন্ন সংগঠনের দলীয় সংকীর্ণতা, দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা এবং জনতুষ্টিমূলক চিন্তা-ভাবনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্যানেল ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত কয়েকটি পদে আমরা প্রার্থিতা ঘোষণা করেছি।
সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের (একাংশ) সভাপতি অমর্ত্য রায় বলেন, ’আমরা দীর্ঘদিন যাদের সাথে একসাথে আন্দোলন সংগ্রামে হেঁটেছি তাদের নিয়েই প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রগতিশীল অন্য সংগঠন যারা আছে তাদের সাথে আমরা কয়েক বছর থেকেই নেই, তাই ঐক্যের দিকে আমরা যাইনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম