| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ড্রামে ২৬ টুকরো লাশ: আশরাফুল হকের দাফন সম্পন্ন

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৫, ২০২৫ ইং | ০৯:০৩:২৬:পূর্বাহ্ন  |  ১০৩০৭৬১ বার পঠিত
ড্রামে ২৬ টুকরো লাশ: আশরাফুল হকের দাফন সম্পন্ন
ছবির ক্যাপশন: ঢাকায় খুন হওয়া রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আশরাফুল হকের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি :  পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্বের জেরে বাল্যবন্ধুর হাতে নৃশংসভাবে নিহত কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের (৪২) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর নয়াপাড়া আল মাহফুজ মাদ্রাসা মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক। ভোর থেকেই নয়াপাড়া গ্রামে হাজারো মানুষ ভিড় করতে থাকেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর)গভীর রাতে আশরাফুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। সকালে জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন। মায়ের আহাজারি, স্বজনদের কান্না আর শোকাহত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে আশরাফুলের শেষ বিদায়।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পরিবার শোকে নিস্তব্ধ। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ বাল্যবন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজ আশরাফুলকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন আনজিনা বেগম শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় জরেজুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জরেজুল ও শামীমা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বামী হারিয়ে আহাজারি করতে করতে লাকী বেগম বলেন, “জরেজকে ভাইয়ের মতোই মনে করত আমার স্বামী। জাপান যাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা চাইছিল,আমরা দিতে রাজি ছিলাম। আরও লাগলে দিতাম। আমার সব সম্পত্তি দিয়ে হলেও স্বামীকে বাঁচাতে চাইতাম। সে কেন আমার স্বামীর জান কাড়ল? আমি তার ফাঁসি চাই। যারা আমার স্বামীকে টুকরো করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই।”

নিহতের বাবা আবদুর রশিদ বিলাপ করে বলেন, “হাসপাতালে ছিলাম। জরেজই খুব তাগাদা দিয়ে ছেলেটাকে ঢাকা নিয়ে গেছে। জানতাম যদি খুন করবে, নিজের জান দিয়েও যেতে দিতাম না। এখন নাতি-নাতনিদের কে দেখবে?”

সরেজমিনে দেখা যায়, মা এছরা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, “আমার বেটা তো কারও ক্ষতি করে নাই। তাহলে কেন এমন করল ওরা? কেন আমার বেটাকে টুকরা টুকরা করল?”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল হক মা-বাবার একমাত্র ছেলে। চার বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করতেন। তার সংসারে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী এক ছেলে আছে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, “আশরাফুল একজন প্রতিষ্ঠিত কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন। অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র মানুষ। দুই ঈদে তিনি এলাকার অসহায় মানুষদের জন্য শাড়ি-লুঙ্গি, শুকনা খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানির ঈদে প্রতিবছর একটি গরু কিনে দরিদ্রদের মধ্যে মাংস দিতেন। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, “মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়া প্রবাসী বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে একটি ড্রাম থেকে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪