রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীত ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান দৃঢ় করছে। দিনের শুরুতেই হিমেল বাতাস, ভেজা আবহাওয়া আর গায়ে জড়ানো ঠান্ডা অনুভূতিতে পুরো জেলাজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আগাম শীতের উপস্থিতি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় সাধারণ মানুষ নেমে পড়েছে উষ্ণ কাপড়ের খোঁজে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, আর বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ঘন কুয়াশা না থাকলেও আর্দ্রতার উচ্চমাত্রা বাতাসে বাড়িয়ে তুলেছে শীতের কামড়।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ফুটলেও তাপমাত্রায় রাত দিনের বড় পার্থক্য মানুষকে বেশ বিব্রত করছে। মাত্র একদিনে তাপমাত্রায় এসেছে লক্ষণীয় তারতম্য। শুক্রবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বৃহস্পতিবারের ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রির তুলনায় কিছুটা বেশি। অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের তুলনায় রাত ও ভোরে তাই শীতের তীব্রতা আরো প্রবল হয়ে উঠছে।
পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, দেবীগঞ্জ, বোদা ও আটোয়ারী সব উপজেলাতেই একই চিত্র। ভোররাত থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে ঠান্ডা বাতাস, আর সূর্য ওঠার পরেও প্রচণ্ড আর্দ্রতা ও হিমেল হাওয়া মিলেমিশে তৈরি করছে শীতের তীক্ষ্ণ অনুভূতি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তার মতে, সামনে আরও শীত নামতে পারে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম