ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সকাল ৯টা। তখনো ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেট বন্ধ। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগী দেখার কথা থাকলেও সোমবার সকাল ১০টা ২২ মিনিট পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি বহির্বিভাগে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপেক্ষমাণ রোগীরা।
ঠান্ডা ও গলা ব্যথা নিয়ে সকাল সকাল চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন ঝর্না আক্তার। তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে আটটায় এসেছি। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা হয়ে গেছে। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি—এভাবে দেরি হলে বকাঝকা খাব। কিন্তু এখনো ডাক্তার আসেননি।”
আশপাশে থাকা অন্য রোগীরাও জানান, কেউ ৮টায় কেউ ৮টা ৩০ মিনিটে এসেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বন্ধ গেটের সামনে। শুধু চিকিৎসকই নয়, হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডে তীব্র ওষুধ সংকটও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সেফট্রিয়াক্সোন (১ গ্রাম ও ২ গ্রাম), মেরোপেনেম—এসব জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নেই ডেক্সামেথাসন ও ট্রানেক্সামিক অ্যাসিডও। এমনকি সাধারণ নরমাল স্যালাইন, ডিএনএস, ল্যাকটেটেড রিঙ্গারের মতো মৌলিক স্যালাইনও মিলছে না। মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বাহার উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, “স্বামী তিন দিন ধরে ভর্তি। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মতো ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একটি স্যালাইনও নেই।”
আরেক রোগীর স্বজন জানান, “টয়লেটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ—অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধে ভরা। ফলে রোগী ও আমরা বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।”
ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স সাদ্দাম হোসেন বলেন, “কয়েক সপ্তাহ ধরে ওষুধের সংকট চলছে।” এ বিষয়ে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান বলেন, “চিকিৎসকদের সময়মতো রোগী দেখার বিষয়ে আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আবারও সতর্ক করা হবে। এরপরও যদি সমস্যা থাকে, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওষুধ সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, “এই হাসপাতালের শয্যা ২৫০ হলেও প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি আশপাশের জেলার রোগীরাও আসেন। তাই কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন