| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এলপিজি ভ্যাট প্রত্যাহারসহ শুল্ক কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ইং | ০৪:১৭:৪৩:পূর্বাহ্ন  |  ৭২৭ বার পঠিত
এলপিজি ভ্যাট প্রত্যাহারসহ শুল্ক কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

স্টাফ রিপোর্টার: এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ভর্তিতে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, ফার্নিচার ও কাগজসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় ১৩টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

এলপিজি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, একই প্রতিষ্ঠানের বোটলিং ইউনিটে সিলিন্ডার ভর্তির সময় ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে, যা অযৌক্তিক। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, উৎপাদন ও বিপণন একই প্রতিষ্ঠানের হলেও আলাদা স্থানে ভর্তির কারণে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান এ দাবি নাকচ করে বলেন, ভ্যাট কমালে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমার নিশ্চয়তা নেই।

ফার্নিচার খাতের সংকট তুলে ধরে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্পমালিক সমিতি-এর চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে মোট করের বোঝা ১১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দেন।

কাগজ খাতে ভিন্নমুখী প্রস্তাব উঠে আসে। বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানায়, বিপরীতে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন শুল্ক বাড়ানোর পক্ষে মত দেয়।

এদিকে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মাছ চাষিদের ব্যাংক হিসাব ও ভ্যাট নিবন্ধনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পাশাপাশি তারা ভেনামি চিংড়ি আমদানি করে পুনরায় রপ্তানির অনুমতির প্রস্তাব দেয়।

কোল্ড স্টোরেজ খাতের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৬ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। একই সঙ্গে আলু কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন তিনি।

প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা কাস্টমসে অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলে বলেন, ১ শতাংশ শুল্কের বিপরীতে অনেক ক্ষেত্রে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তারা।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের করের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট-এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শুধু পোশাক শিল্প নয়, অন্যান্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে সিলেট চেম্বার পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার কাস্টমসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্দরে জরিমানা গুনতে হওয়া এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি তোলে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪