| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজধানীতে বাস দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু, আহত ১০

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৭, ২০২৬ ইং | ১১:৫১:৪৫:পূর্বাহ্ন  |  ৮২৫ বার পঠিত
রাজধানীতে বাস দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু, আহত ১০

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনে উঠে গিয়ে আকাশ পরিবহনের আরেকটি বাসকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের ব্যস্ত সময়ে এমন দুর্ঘটনায় নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকায় সড়কে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত দুই বাসের যাত্রীদের আর্তচিৎকারে ঘটনাস্থল ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতরা হলেন লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) এবং মো. রবিউল (২২)। নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা এলাকায় এবং রবিউলের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলাম পরিবহনের বাসটি দ্রুতগতিতে নতুন বাজার এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় উত্তরামুখী সড়ক পার হওয়ার মুহূর্তে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি সড়কের ডিভাইডারের ওপর উঠে গিয়ে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের একটি বাসে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় আকাশ পরিবহনের বাসটি কয়েক গজ দূরে সরে যায় এবং বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস সদস্য ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে এরই মধ্যে ইসলাম পরিবহনের বাসের চালক ও হেল্পার পালিয়ে যান। পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বাজার এলাকায় সড়কের পাশে একটি বাস কাউন্টার থাকায় সবসময় যানবাহন ও মানুষের চাপ বেশি থাকে। ইসলাম পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে উঠে যায়।

তিনি বলেন, “আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রী ছিল অনেক বেশি। অন্যদিকে ইসলাম পরিবহনের বাসে যাত্রী ছিল মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী মারা যান। পরে হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।”

এসআই নেসার উদ্দিন আরও জানান, ইসলাম পরিবহনের যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাসটি পটুয়াখালী থেকেই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। চালক পুরো পথে অসংযত আচরণ করেছেন এবং যাত্রীদের অভিযোগ উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়কে অবস্থান নিলে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

ঈদযাত্রার প্রাক্কালে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে আবারও প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের বেপরোয়া গতি ও চালকদের দায়িত্বহীন আচরণ নিয়ে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪