আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আরও উত্তেজনা বৃদ্ধির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এ পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লোহিত সাগর মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান বিকল্প রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন পাইপলাইনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যে বিপুল পরিমাণ তেল পাঠানো হচ্ছে, তার একটি বড় অংশ লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে।
হুথিদের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইসরায়েলি জাহাজের চলাচল ঠেকানো তাদের প্রথম পদক্ষেপ। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইসরায়েলগামী সব জাহাজের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, ঘোষণাটি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নয়; বরং যেসব জাহাজকে হুথিরা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করবে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ পরিচালনাকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতীতে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা জাহাজও হুথিদের হামলার শিকার হয়েছে। ফলে নতুন ঘোষণার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এক শিপিং সূত্রের ভাষ্য, হুথিরা কোন জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে তা নির্ধারণে অতীতে নির্ভুলতা দেখাতে পারেনি। তাই অনেক জাহাজ আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে দীর্ঘ পথ বেছে নিতে পারে, যদিও এতে ব্যয় বাড়বে।
বর্তমানে লোহিত সাগরে যুদ্ধঝুঁকি বীমার হার জাহাজের মূল্যের প্রায় ০.৩ শতাংশ রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে বীমা খাতের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধের সময় হুথিদের হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি, যেমন ডেনমার্কের মেয়ার্স্ক এবং জার্মানির হাপাগ-লয়েড, আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করে। সে সময় হুথিরা শুধু ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজ নয়, ইসরায়েলি বন্দর ব্যবহারকারী শিপিং কোম্পানিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে লোহিত সাগরে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও নৌবাণিজ্যে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালের মাধ্যমে যে তেল লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে, সেটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি