আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে প্রশাসনের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১১ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। পরে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় রাওয়ালকোটে। সেখানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে এক ব্যবসায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর গত শুক্রবার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, রোববার একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। সেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত আরেক আন্দোলনকারীর মরদেহ রাখা ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালানো হলে ছয়জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরাও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি চালায় এবং বোমা নিক্ষেপ করে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ; অন্যদিকে জেএএসি ও আন্দোলনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে তল্লাশি অভিযান। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি