সিনিয়র রিপোর্টার: চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়। ঈদের ছুটির পর টানা পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটি থেকে আমানতের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে তারল্য সংকট মোকাবিলা ও বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে চাপে পড়ে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন, যা ব্যাংকের নগদ অবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে।
ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত হিসাবে এখনো পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সিআরআর ঘাটতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ তহবিল চাওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের চলতি হিসাবে আগে ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকলেও তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যাংকটি ২০২২ সাল থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংকটের মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটিতে সুশাসন ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামের একটি পক্ষ তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১ জুন থেকে চলমান এ কর্মসূচিতে তার নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানানো হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পূর্ববর্তী সময়ে তাকে ঘিরে বিতর্ক ছিল। তবে এসব অভিযোগ তিনি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পরিবর্তন আসে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি