| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রাখা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৭, ২০২৬ ইং | ১৬:৩৭:৪৬:অপরাহ্ন  |  ৪৯৫৪ বার পঠিত
শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রাখা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের দুর্বলতা বা আপসের সুযোগ নেই বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আর এই জনশক্তিকে দক্ষ, যোগ্য ও বিশ্বমানের মানবসম্পদে রূপান্তর করার মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়।

বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনসংখ্যা। কিন্তু এই জনসংখ্যাকে যদি দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা না যায়, তাহলে এটি সুযোগের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা দিয়ে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও বাড়াতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ডকে তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া। আজ যারা এই সম্মাননা পেয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পাবেন। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে উৎসাহিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের স্বীকৃতি শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সিলেবাস ও কারিকুলাম সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছি। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সিলেবাস ও কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই না করে, বাস্তব জীবনেও দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিতে পারে।

সংস্কৃতি ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এই জায়গাগুলোতে আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। নতুন প্রজন্মকে মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এসব বিষয়ে জোর দিতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষাখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতেও শিক্ষা খাতকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে কলা অনুষদ থেকে ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৭ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে ২৯ জন, আইন অনুষদ থেকে ৩ জন এবং চারুকলা অনুষদ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, গবেষণার আগ্রহ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪