আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতি তাদের সামরিক প্রতিশ্রুতি কমিয়ে দেওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে জোটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো তাদের অবদান বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের জানিয়েছিল, কোনো সংকট পরিস্থিতিতে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের জন্য বরাদ্দ জাতীয় সামরিক সক্ষমতার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের আগে ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের রুটে বলেন, “এখনো কিছু ক্ষেত্রে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তবে সামগ্রিক চিত্র ইতিবাচক।”
তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
চলতি মাসে ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর প্রধান এবং ন্যাটোর সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা হচ্ছে ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডা দ্রুত জোটের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় তাদের বিমান ও জাহাজের সংখ্যা বাড়াবে।
বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাটছাঁট
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে তাদের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের তথ্যমতে, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই কাটছাঁট করা হয়েছে।
সূত্রটির তথ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ এফ-১৫ ও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমে ৯৯টিতে নেমে আসবে। একইভাবে এমকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে ১২টিতে দাঁড়াবে।
কেসি-১৩৫ ও কেসি-৪৬ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সংখ্যা ৭৯ থেকে কমে ৬৩টিতে নামবে। এছাড়া দুটি কৌশলগত বোমারু বিমান ও একটি বিমানবাহী রণতরীর পরিবর্তে মাত্র একটি বোমারু বিমান ও একটি বিমানবাহী রণতরী বরাদ্দ রাখা হবে।
সামুদ্রিক টহল বিমানের সংখ্যা ২৬ থেকে কমে ১৫টিতে নেমে আসবে। ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১৭ থেকে কমে ৯টিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম একমাত্র সাবমেরিনটিও ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত সক্ষমতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
চাপের মুখে ন্যাটো
বর্তমানে ন্যাটো জোট নজিরবিহীন চাপের মুখে রয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ উদ্বিগ্ন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিকবার দেওয়া হুমকির বাস্তবায়ন হিসেবে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি