ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে ইরানি তেলবাহী একাধিক ট্যাংকার। ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছানোর পর নতুন দফা আলোচনা শুরুর মাত্র দুই দিন আগে এ তথ্য জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ট্যাংকারট্র্যাকার্স।
তেল পরিবহন ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ট্যাংকারট্র্যাকার্স বুধবার ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে জানায়, গত দুই মাসের মধ্যে ইরানের প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক পর্বত রিসোর্টে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার খবর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছে।
ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) দুটি ট্যাংকার—‘ডিওনা’ ও ‘হিরো-২’—মোট ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল বহন করে মঙ্গলবার অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে ‘স্ট্রিম’ নামের আরেকটি ট্যাংকার বুধবার ইরানের বন্দরের দিকে যাত্রা করছিল।
এ ছাড়া এনআইটিসির পরিচালনায় থাকা এবং ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী আরেকটি ট্যাংকার বুধবার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা অতিক্রম করে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সেবাটি জানায়, ‘সোনিয়া-১’ নামের ট্যাংকারটি গ্রিনিচ সময় রাত ১টা ১১ মিনিটে অবরোধ রেখা ত্যাগ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরপরই নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০ দিনব্যাপী এই আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা তৈরির দিকে এগোবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ছাড় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং এর আওতায় ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমা সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কাঠামোগত চুক্তিটি ইতোমধ্যেই ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি এবং তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। আল জাজিরা ও এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/এসসি