| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৬ লাখ টন তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৭, ২০২৬ ইং | ১৭:১৬:৫১:অপরাহ্ন  |  ৩৭০১ বার পঠিত
১৬ লাখ টন তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গভমেন্ট টু গভমেন্ট (জিটুজি) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।

এ তেল ক্রয়ের বিষয়ে সমঝোতা করতে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সরকারি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কম খরচে তেল আমদানির লক্ষ্যে সমঝোতা বৈঠকে অংশ নিতে এবারই প্রথম কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছেন।

প্রতিনিধি দলে থাকছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক তেল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে কেনা হয়। বর্তমানে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির সঙ্গে ১০টি দেশের চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর এই দুই মেয়াদে তেল সরবরাহ করে থাকে।

এবারের সমঝোতায় অংশ নেবে ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি, কিউ ট্রেডিং এবং পেটকো মালয়েশিয়া।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জিটুজি ভিত্তিক এ ক্রয় প্রক্রিয়ায় মূল তেলের দাম নিয়ে কোনো দরকষাকষি হবে না। প্ল্যাটসের মূল্য নির্ধারণ ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি তেলের দাম পরিশোধ করবে। তবে জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আলোচনায় প্রিমিয়াম, জাহাজ ভাড়া, বীমা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ কমানোর বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ করেছে বিপিসি। এ ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট পর্যন্ত নির্ধারিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রিমিয়াম দাবি করেছে।

তবে বিপিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী শুক্রবার যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হলে এ প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে। মার্চ-এপ্রিল মাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় ৩০ হাজার টন পরিশোধিত তেল কিনতে সরকারকে যেখানে ৫ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছিল, বর্তমানে একই পরিমাণ তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ডলার।

সবশেষ প্ল্যাটস ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল কিনছে ১৬৩ টাকায়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরোপিত আমদানি শুল্ক রয়েছে ৩৬ টাকা।

জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত ১৪ জুন পর্যন্ত অকটেন ছিল ৫১ হাজার ৭৮ টন, পেট্রোল ২৮ হাজার ৮৩২ টন, জেট ফুয়েল ৫২ হাজার ৯০৪ টন, ডিজেল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন। বর্তমান মজুত দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা ৩২ দিনেরও বেশি সময় পূরণ করা সম্ভব হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪