ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। তারা দেখতে পান, আগুনে ঘেরা বারের সামনের দরজা দিয়ে ভেতরে থাকা মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটির ভেতর থেকে ভয়াবহভাবে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। আতঙ্কিত মানুষজন দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। কেউ চিৎকার করছেন, আবার কেউ হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে অন্তত দুজনকে আগুনে পুড়তে দেখা গেছে।
ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আগুনের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
দমকলকর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এর আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এ ছাড়া ৬০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম থাইরাথ জানিয়েছে, এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগুন লাগার সময় বারে গান পরিবেশন করা এক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
ওই শিল্পীর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিস্ফোরণের মতো শব্দ হওয়ার পর ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, অনেকেই বের হতে না পেরে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে টয়লেটে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই বেশিরভাগ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামে পরিচিত বারটি ব্যাংককের চাতুচাক এলাকায় অবস্থিত। থাই সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এটি ওই এলাকার একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্র।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে বারের বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহের ব্যাগ দেখা গেছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আগুনে বারের আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের কিছু অংশও ধসে পড়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ত সিত্তিপুন্ট বলেন, বারের ভেতরে দাহ্য উপকরণ দিয়ে সাজসজ্জা করায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিষ্টি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির জন্য রাখা কিছু টেবিল জরুরি নির্গমনপথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
এর আগে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক গাড়িচালক বারে আগুন দেখতে পান। পরে তিনি দমকল বিভাগে খবর দেন। মধ্যরাতের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলকর্মীরা।
ওই চালক ডেইলি নিউজকে জানান, তিনি গাড়ি থেকে নেমে জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুজনকে উদ্ধার করে বাইরে আনতে সহায়তা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম