| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জীবন দেব, তবু ২৪ হারিয়ে যেতে দেব না : জামায়াত আমির

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৬, ২০২৬ ইং | ১৪:৪৯:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৩৪৯ বার পঠিত
জীবন দেব, তবু ২৪ হারিয়ে যেতে দেব না : জামায়াত আমির

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আল্লাহর কসম, জীবন দেব, কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও শ্রমিকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য একশ্রেণির লুটেরা ছিনিয়ে নিয়েছে। এবারও ২০২৪ সালের অর্জন ম্লান করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের ফসল। অথচ এখন কেউ কেউ বলতে চাইছেন, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের সময়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনোই বলিনি, আগের সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সেই সময় আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি, শত শত কর্মীকে হারিয়েছি, অসংখ্য মানুষ কারাবরণ করেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা কিংবা সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। সংসদেও বলেন, টকশোতেও বলেন। আমরা যখন এসব বিষয়ে সংসদে কথা বলি, তখন বলা হয় এগুলো সংসদের বাইরের বিষয়। অথচ আমাদের সমালোচনা করতে গেলে আধা শতাব্দী আগের ঘটনাও টেনে আনা হয়।

একটি প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়, সামনে এগোতে পারে না।” জাতি যদি সবসময় অতীত নিয়েই পড়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের পথে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, সামনে তাকাতে হবে এবং ২০২৪ সালের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের তরুণরা বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল সবার অধিকার নিশ্চিত হোক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটুক, আদালতে মানুষ ন্যায়বিচার পাক। তারা ভিক্ষা নয়, নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চেয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বড় বড় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখেন, কারণ তারা এটিকে মজলুম মানুষের সংসদ মনে করেন। সেখানে জনগণের প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের জন্য কী বলছেন, তা জানার আগ্রহ সবার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনগণই বিবেক দিয়ে সবকিছুর মূল্যায়ন করবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

গণভোট নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে তা বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। অথচ এসব প্রশ্ন আগেই গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি বোঝাতে চান, দেশের ১৮ কোটি মানুষের কোনো বোধশক্তি নেই? এটি পুরো জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি মানুষ চারটি প্রশ্নই বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এসব যুক্তি গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি ছাড়া কিছু নয়। কেউ বলেছেন, ভোট হয়ে যাক বলেই আগে সবকিছু মেনে নিয়েছিলেন। আবার কেউ বলেছেন, ভোট পাওয়ার জন্য টোল মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? যারা দেশ পরিচালনা করবেন, আইন প্রণয়ন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন এবং জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছিলেন। এখন বলা হচ্ছে, সরকার যেহেতু ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় মানার প্রয়োজন নেই। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? আর ভোট কীভাবে হয়েছে, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্ল্যাকআউটের সময় কী ঘটেছে, জনগণ তা জানে। সময়ই সবকিছুর বিচার করবে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। কিন্তু সংবিধানে কোথাও ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ নামে কোনো কমিটির উল্লেখ আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটের রায়কে আড়াল করার চেষ্টা।

তিনি বলেন, এ কারণেই আমরা সংসদে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হলে জনগণই তার জবাব দেবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষেই আছি। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই এ বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতে ইসলামীর জন্য রয়েছে ‘লাল কার্ড’। তবে আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও করি না। এই দেশই আমাদের দেশ, আর আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪