মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: নিখোঁজ থাকা সাংবাদিক ও লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। শুক্রবার (২২ আগষ্ট) জুমার নামাজের পর মেঘনা নদীর চরবলাকিতে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে নৌ পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রমনা থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক রিপোর্টার্স টোয়েন্টিফোরকে বলেন, গজারিয়া মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে মরদেহটি নিখোঁজ থাকা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের। তার পরিবার ঘটনাস্থলে গেছেন মরদেহ শনাক্ত করতে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি জিডি করেন তার ছেলে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
নৌ পুলিশ জানায়, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি বিভুরঞ্জন সরকারের।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার কথা বলে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। তার নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে থানায় জিডি করেছে তার পরিবার। তিনি আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখতেন।
৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন চাকরি করতেন 'আজকের পত্রিকা'য়। এর বাইরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখতেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতামত পাতাতেও তিনি লিখতেন।
তিনি সর্বশেষ নিবন্ধটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মেইল করেন বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায়। ফুটনোটে তিনি লেখেন, “জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।”
বিভুরঞ্জনের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, নানা কারণে হতাশায় ভুগছিলেন বিভুরঞ্জন। এরপর রাতে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে।
‘খোলা চিঠি’ শিরোনামে বিভুরঞ্জনের শেষ লেখাটি শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতামত বিভাগে প্রকাশিত হয়। সেখানে নিজের ও ছেলের অসুস্থতা, মেডিকেল পাস সরকারি কর্মকর্তা মেয়ের উচ্চতর পরীক্ষায় ‘ফেল করা’, বুয়েটে থেকে পাস করা ছেলের ‘চাকরি না হওয়া’ এবং নিজের আর্থিক দৈন্য নিয়ে হতাশার কথা লিখেছেন তিনি।
পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে বের হন বিভুরঞ্জন। মোবাইল ফোনটিও তিনি বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। তিনি না ফেরায় এবং কারো কাছে তার কোনো তথ্য না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ছেলে ঋত সরকার।
তার ছেলে আরো জানান, "আমরা বাবার অফিসে (বনশ্রী) খোঁজ নিই এবং জানতে পারি যে তিনি অফিসে উপস্থিত হননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সম্ভাব্য সকল স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু কোথাও পাওয়া না গেলে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরির আবেদন করলাম।"
বিভুরঞ্জনের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুকে লেখেন, "আমার দাদা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অন্যান্য দিনের মতো অফিস (আজকের পত্রিকা) যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে অফিসে যায়নি।
“পরিচিত পরিমণ্ডলের কোথাও যায়নি। আজ কেউ তাকে দেখেনি। রাত ১টা পর্যন্ত সে বাসায় ফেরেনি। হাসপাতাল-পার্ক কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে আজ মোবাইলও বাসায় রেখে গেছে। রাতে রমনা থানায় জিডি করা হয়েছে। তার জন্য আমরা পরিবারের সবাই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছি।"
এরপর শুক্রবার বিকালে মুন্সীগঞ্জে বিভুরঞ্জনের লাশ পাওয়ার খবর জানায় পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব