| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অপ্রকাশিত বই হাতে সংসদের বাইরে রাহুল:

লাদাখ সীমান্তে চীনা আগ্রাসন ও প্রধানমন্ত্রীর ‘দায়িত্ব এড়ানো’ নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৪, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৪:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৫৭০৪৮ বার পঠিত
লাদাখ সীমান্তে চীনা আগ্রাসন ও প্রধানমন্ত্রীর ‘দায়িত্ব এড়ানো’ নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা
ছবির ক্যাপশন: আশিস গুপ্ত

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : সংসদের ভেতরে সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ নিয়ে মুখ খুলতে বাধা পাওয়ার পর, বুধবার লোকসভার বাইরে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম.এম. নারাভানের অপ্রকাশিত বই প্রদর্শন করে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। 

লোকসভার ভেতরে সোমবার থেকেই নারাভানের ওই বই নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছিল, যেখানে ২০২০ সালে লাদাখে চীনা অনুপ্রবেশের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

বুধবার সংসদের বাইরে রাহুল গান্ধী সাফ জানান, ওরা বলছে এই বইটির কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ভারতের প্রতিটি তরুণের জানা উচিত যে এই বইটির অস্তিত্ব আছে। এটি জেনারেল নারাভানের বই, যেখানে তিনি লাদাখ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। অথচ আমাকে এই বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। 

রাহুলের অভিযোগের মূলে রয়েছে 'ক্যারাভান' পত্রিকায় প্রকাশিত নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী 'ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি'-র কিছু অংশ। সেখানে প্রাক্তন সেনাপ্রধান দাবি করেছেন, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চীনা ট্যাঙ্ক যখন ভারতীয় ভূখণ্ডের কৈলাস রিজের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে নির্দেশের জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কোনো সদুত্তর পাননি। শেষে জানানো হয়, 'ওপর মহল' থেকে নির্দেশ আসবে। রাহুলের দাবি অনুযায়ী, সেই 'ওপর মহল' অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানকে বলেছিলেন, 'জো উচিত সমঝো ওহ করো' (যা ঠিক মনে হয় তাই করো)। 

রাহুল গান্ধীর মতে, এই বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে সেনাপ্রধানকে একা ছেড়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে নারাভানে নিজেকে গোটা ব্যবস্থার দ্বারা 'পরিত্যক্ত' বলে মনে করেছিলেন।

সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই ট্রেজারি বেঞ্চ এবং স্পিকারের বাধার মুখে পড়তে হয় রাহুলকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আপত্তি তুলে জানান যে, কোনো অপ্রকাশিত বইয়ের তথ্য সংসদে পেশ করা যায় না। এরপর স্পিকার ওম বিড়লা ৩৪৯ নম্বর ধারা উল্লেখ করে রাহুলকে উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেন। এমনকি এই প্রতিবাদ করায় বিরোধী দলের আটজন সাংসদকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী ওই নিবন্ধের সত্যতা যাচাই করে সংসদে জানিয়েছিলেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা ট্যাঙ্কের মোকাবিলা করতে চাইলেও প্রধানমন্ত্রী অনুমতি না দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলেছিলেন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী আদতে বলতে চেয়েছিলেন 'আমার দ্বারা হবে না'। এদিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাহুল বলেন, "আমার মনে হয় না প্রধানমন্ত্রীর আজ লোকসভায় আসার সাহস আছে। তিনি যদি আসেন, তবে আমি নিজে গিয়ে এই বইটি ওঁর হাতে তুলে দেব। উনি এটা পড়ুন এবং দেশবাসী সত্যিটা জানুক।" 

প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র না মেলায় নারাভানের এই বইটির প্রকাশ অনেকদিন ধরেই থমকে আছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সংঘাতের সময় সরকারের ব্যর্থতা এবং সমন্বয়ের অভাব যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্যই এই বইটির কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাহুলের এই পদক্ষেপের পর সীমান্ত সুরক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

[ আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল। এই বিভাগে লেখকের ‘মতামত’ একান্তই তার নিজস্ব; যার দায়ভার রিপোর্টার্স২৪ বহন করে না। ধন্যবাদ ]

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪