| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আজ লাঙ্গলবন্দে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের ‘পাপমুক্তির’ স্নানোৎসব

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৫, ২০২৬ ইং | ১২:১৫:২৪:অপরাহ্ন  |  ৫৭৫৫১৩ বার পঠিত
আজ লাঙ্গলবন্দে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের ‘পাপমুক্তির’ স্নানোৎসব

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের পুণ্য স্নানোৎসব। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী চৈত্র মাসের শুক্লা তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নানোৎসবে লাঙ্গলবন্দে সমবেত হন। তাদের বিশ্বাস, শুক্লা অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্রে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নান শুরু হবে এবং শেষ হবে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে। এদিন লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা শংকর কুমার দে।

পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগের শুরুতে ব্রাহ্মণ জমদগ্নি ও সূর্যবংশীয় কন্যা রেণুকার পঞ্চম সন্তান রূপে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে পরশুরামের জন্ম হয়। একবার রেণুকা স্বামীর অনুমতি ছাড়াই পিতার বাড়িতে চলে গেলে জমদগ্নি ক্ষুব্ধ হন এবং তার পুত্র পরশুরামকে মায়ের শিরচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে দ্বিধায় পড়ে যান পরশুরাম এবং মায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন রেণুকা নিজেই পুত্রকে পিতার আদেশ পালন করতে বলেন। পরে পরশুরাম মায়ের শিরচ্ছেদ করেন। যদিও পরবর্তীতে দেবতার কৃপায় রেণুকা পুনর্জীবন লাভ করেন। কিন্তু মাতৃহত্যার পাপের কারণে তার কুঠার হাতের সঙ্গে লেগে যায়।

পাপের বোঝা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরশুরাম শিবের তপস্যার মাধ্যমে মুক্তির পথ খোঁজেন। তখন তাকে বলা হয়, হিমালয়ের কৈলাশ পর্বতের নিচে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন নদীতে স্নান করলে তার পাপ মোচন হবে। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে পরশুরাম সেই নদীতে স্নান করেন এবং পাপমুক্ত হন।

এই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার জন্য পরশুরাম হাতের খসে যাওয়া কুঠারকে লাঙলে রূপান্তর করে পাথর কেটে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে মর্ত্যলোকের সমভূমিতে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। লাঙল দিয়ে সমভূমির বুক চিরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন। ক্লান্ত হয়ে পরশুরাম বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় এসে লাঙল চালানো বন্ধ করেন। এই কারণে স্থানটির নাম হয় লাঙ্গলবন্দ।

স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ১৮টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কক্ষ ও ১০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দুই শিফটে আমাদের প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবে। ট্রাফিকের আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আনসাররাও সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি স্নান করতে গিয়ে কেউ ডুবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নৌ পুলিশ কাজ করবে।”

এছাড়া পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

এবার ২৪টি ঘাটে স্নানোৎসব হবে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির বলেন, “সেবাকেন্দ্রে সরকারি জিআর অনুসারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন ঈদের সময় হওয়ায় মহাসড়কে চাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা ট্রাফিক বিভাগকে নিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবে এবং বিএনপির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এখানে কাজ করবে।”

তিনি আরও বলেন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন এডিসি এখানে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর একটি টিম টহলে থাকবে। এখানে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি অস্থায়ী হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল টিম রাখা হবে। অসুস্থদের বহনের জন্য রিকশা এবং ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবে তীর্থযাত্রীদের জন্য মেডিকেল ক্যাম্প ও পরিবহন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহানগর বিএনপির নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এ উদ্যোগে বন্দর ঘাট ও নবীগঞ্জ গুদারাঘাট থেকে আগত তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতে লেগুনা বা অটোর ব্যবস্থা রাখা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪