রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণের কিস্তি ছাড় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই বিষয়ে এক কথায় ‘হ্যাঁ বা না’ বলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি একটি চলমান আলোচনার প্রক্রিয়া, যা ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে দেন-দরবারে এখনো কয়েকটি বিষয়ে সমাধান হয়নি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি আনার চেষ্টা করা হবে। “এটা এমন কোনো বিষয় নয় যে আজ আলোচনা শেষ হয়ে যাবে। আলোচনা চলমান থাকবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও সংস্কার কার্যক্রম জড়িত থাকে।
বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আইএমএফ—এমন তথ্যও বৈঠকে উঠে আসে। এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “যিনি ওই সংবাদ লিখেছেন, তাকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ বিষয়ে আমার কাছে আলাদা কোনো তথ্য নেই।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও স্থগিত থাকা কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনে চলমান বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে ঋণ ছাড় নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা করে।
১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া বৈঠকের পঞ্চম দিনে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকেও কিস্তি ছাড় ও সংস্কার অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
আইএমএফ এ সময় বাংলাদেশকে বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো সমাধানের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম