| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের দুর্বলতা উন্মোচন করেছে

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ইং | ১৪:০৫:২২:অপরাহ্ন  |  ৫৩৭ বার পঠিত
ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের দুর্বলতা উন্মোচন করেছে
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সাত সপ্তাহের যুদ্ধেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়নি কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব দাবি মানতে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি। তবে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের কাছে ট্রাম্পের একটি বড় দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে অর্থনৈতিক চাপ।

শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে ট্রাম্প কতটা সহনশীল থাকতে পারেন তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলায় যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প তখন এটিকে ‘তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি’, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন, যাতে অভ্যন্তরীণ চাপ কমানো যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এমন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসন আগে অনুমান করতে পারেনি। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নজিরবিহীন ধাক্কা।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, তবুও বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়। ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে।

নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ নিয়ে জনমতও নেতিবাচক হয়ে উঠছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে দ্রুত সমাধানের পথে যেতে বাধ্য করছে।

ইরান এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপে আগ্রহ দেখালেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেই তিনি দ্রুত কূটনৈতিক পথ খোঁজেন। সাবেক মার্কিন নীতি উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, “অর্থনৈতিক চাপই এই যুদ্ধে ট্রাম্পের অ্যাকিলিস হিল।”

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই দাবি করেছেন, জ্বালানি বাজারের ‘অস্থায়ী’ সমস্যার সমাধানে কাজ করলেও প্রশাসন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোযোগ হারায়নি।

৮ এপ্রিল বিমান হামলা থেকে কূটনীতিতে ট্রাম্পের আকস্মিক মোড় নেওয়ার পেছনে আর্থিক বাজার ও তার সমর্থকগোষ্ঠীর চাপ ভূমিকা রেখেছে। কৃষকরা সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিমান ভাড়াও বেড়েছে।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ট্রাম্প কি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন, নাকি আবার হামলা শুরু করবেন—তা এখনও অনিশ্চিত।

ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম কমে এবং আর্থিক বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। ট্রাম্প দ্রুতই একটি সম্ভাব্য চুক্তির কথা ঘোষণা করলেও ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাস নয়, বছরও লেগে যেতে পারে।

ট্রাম্পের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করা। যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে এই উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্ররা শুরুতেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়, কারণ তাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চায়ন্এ ও রাশিয়া এই সংঘাত থেকে শিক্ষা নিতে পারে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলা সম্ভব।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলোও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে, বিশেষ করে চীনের সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে।

ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী এখনো তার পাশে থাকলেও ভেতরে-বাইরে বিরোধিতা বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক চাক কফলিন বলেন, “তিনি জানেন, তার সমর্থকগোষ্ঠীর বাইরের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী। এর রাজনৈতিক মূল্য তাকে দিতেই হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪