স্টাফ রিপোর্টার: জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা ও রাকিব হোসেন ইভনকে নিয়ে ২০২৪ সালে নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিক শুরু করেছিলেন ‘চারুলতা’ নামের সিনেমার শুটিং। তবে মুক্তির খবর মিলছিল না সিনেমাটির।
এদিকে জানিয়েছিল শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে এটি। তবে এ মাসের শুরুর দিকে সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট জানায়, নানা জটিলতায় খুব বেশি এগোয়নি ‘চারুলতা’র কাজ।
এখন ভাবনা ও ইভনকে নিয়ে তারা শুরু করেছে ‘ঢাকা-১২০৫’ নামের সিনেমা। যেটা বানাচ্ছেন ওয়ালিদ আহমেদ।
সম্প্রতি নির্মাতা অনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট জানায়, ‘চারুলতা’ সিনেমার জন্য অর্থ ও সহায়তা দেওয়া হলেও কাজ সম্পূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেননি নির্মাতা। একপর্যায়ে পরিচালক নিজেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে অক্ষমতার কথা জানান এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে চিঠি দিয়ে দায় স্বীকার করে সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান। তবে এখন পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির কোনো সমাধান বা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেননি অনিক।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অনিক জানান, তিনি ‘চারুলতা’ সিনেমা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বাকি থাকা ডাবিংয়ের কিছু কাজ শেষ হলে এটি ‘ঢাকা-১২০৫’ নামে মুক্তি পাবে।
অনিকের এমন মন্তব্যের পর চটেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট। তারা জানান, ‘চারুলতা’ ও ‘ঢাকা-১২০৫’ দুটি আলাদা সিনেমা।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট। এর শিরোনামে লেখা হয়েছে- গত ১৯ মে গণমাধ্যমে পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ‘চারুলতা’ ও ‘ঢাকা-১২০৫’ চলচ্চিত্র নিয়ে যে মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রতারণামূলক বিবৃতি দিয়েছেন তার বিপরীতে আমাদের বক্তব্য।
১. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ হয়েছে।
আমাদের বক্তব্য: আমাদের কাছে যে পাণ্ডুলিপি (স্ক্রিপ্ট) দিয়েছেন, আমাদের বরাবর ক্ষমা এবং অব্যাহতি চেয়ে যে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ও শিল্পী-কলাকুশলী মারফত যা জানতে পেরেছি তা হলো; এখনো চলচ্চিত্রটির শুটিং পুরোপুরি শেষ হয়নি।
২. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের এডিটিং (সম্পাদনা) শেষ হয়েছে।
আমাদের বক্তব্য: যে সিনেমার শুটিংই এখনো শেষ হয়নি সেটির এডিটিং (সম্পাদনা) কিভাবে শেষ হয়! বাস্তবতা হচ্ছে যতটুকু শুটিং শেষ হয়েছে, সেটি দেখার জন্য একটি ড্রাফট (প্রিভিউ কপি) করে আমাদের কাছে তিনি পাঠিয়েছেন। যা অসম্পূর্ণ এবং একটি পূর্নাঙ্গ চলচ্চিত্র হিসেবে কোনভাবেই গণ্য করা যায় না, এটি মুক্তি দিতে চাইলে অবশ্যই আরো বেশ কিছু অংশ শুট করেই মুক্তি দিতে হবে।
৩. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের ডাবিং ৭০-৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
আমাদের বক্তব্য: সিনেমার নায়ক নায়িকাসহ কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর ডাবিং পুরোপুরি বাকি। এখন পর্যন্ত সহশিল্পীদের মাত্র ৪/৫ জনের ডাবিং আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সহশিল্পীদের ডাবিং পুরোপুরিই বাকি রয়েছে।
৪. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রটির নাম পরিবর্তন করে আমরা ঢাকা ১২০৫’ নাম দিয়েছি।
আমাদের বক্তব্য: ‘চারুলতা’ এবং ‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্র দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সিনেমা। তবে সিনেমা দুটিতে কয়েকটি চরিত্রে কমন অভিনয় শিল্পী রয়েছেন। তাছাড়া চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতিসহ সকল জায়গায় দুটি চলচ্চিত্রই আলাদা আলাদাভাবে নিবন্ধিত। তার এই বানোয়াট বক্তব্যের কারণে আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৫. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের জন্য আমরা মাত্র এগারো লাখ টাকা তাকে দিয়েছি এবং সে নিজের পকেট থেকেও আরো অনেক টাকা যোগ করেছেন।
আমাদের বক্তব্য: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের জন্য আমরা তার বক্তব্যে উল্লেখিত অর্থের থেকেও কয়েকগুণ বেশি টাকা তাকে প্রদান করেছি, যার সকল ডকুমেন্টস আমাদের কাছে রয়েছে। তবুও সে শিল্পী-কলাকুশলীদের ২/১ জন বাদে কাউকেই কোন সম্মানী-পারিশ্রমিক প্রদান করেনি মর্মে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে যা ইতোমধ্যে সে মৌখিকভাবে স্বীকার করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও স্বীকার করেছেন।
৬. তিনি দাবি করেছেন: ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রটি আমরা বন্ধ করেছি।
আমাদের বক্তব্য: আমরা কোথাও ঘোষণা করিনি ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রটি বন্ধ করেছি। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা এখনও তার সাথে সমঝোতায় গিয়ে চারুলতা চলচ্চিত্রটি শেষ করার চেষ্টায় রয়েছি। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি; তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের সাথে কোন সমঝোতায় আসেননি। বরং গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন।
৭. তিনি দাবি করেছেন: আমরা তার সাথে কোন কথা বলিনি বা যোগাযোগ করিনি।
আমাদের বক্তব্য: তার অপারগতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইতোমধ্যেই কয়েকদফা সময় এবং অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি। এটির একটি সঠিক ও সুন্দর সমাধানের জন্য তাকে ফোনে, মেসেজে, মেইলে, তার পরিবারের মাধ্যমে, এমনকি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মাধ্যমেও এটির সমাধানের কথা জানিয়েছি ও চেষ্টা করেছি। যার সকল প্রমাণাদি আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
৮. তিনি দাবি করেছেন: তিনি এই চলচ্চিত্রের সাথে আর জড়িত না থাকলেও কো-অর্ডিনেট করে শেষ করে দিবেন।
আমাদের বক্তব্য: তার এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি লিখিতভাবে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং আমাদের কোনপ্রকার সহযোগিতা করেননি। তার নানান রকম আর্থিক কেলেংকারি ও পাওনা টাকা না দেওয়ায় অভিনয় শিল্পীরা ডাবিং দিতেও অস্বীকার করেছেন। তাকে সম্পূর্ণ টাকা দেবার পরও আমাদের এরকম লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। আমাদের এত দিনের সুনাম তার কারণে ক্ষুন্ন হয়েছে।
সর্বোপরি তার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে: তিনি (রাইসুল ইসলাম অনিক) আমাদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ থেকে বেশি টাকা নিয়েও আমাদেরকে চলচ্চিত্রটি বুঝিয়ে দেননি। এমনকি শিল্পী-কলাকুশলীদেরও সম্মানী বকেয়া রেখে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত এবং মানহানী করেছেন। যা মামলার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাইসুল ইসলাম অনিক মিথ্যা মালিকানা দাবি করে তার পরিচালিত ‘ইতি চিত্রা’ নামক চলচ্চিত্র আমাদের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাত করেছেন। যা আমরা সিনেমাটি ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তির পর জানতে পেরেছি। উক্ত বিষয়টিও মামলার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব