| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জি-৭ সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৭, ২০২৬ ইং | ১৭:০৭:২৫:অপরাহ্ন  |  ৪০৩১ বার পঠিত
জি-৭ সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে  ট্রাম্পের   নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে রসিকতার সুরে বলেন, “আমিই বস”। একই সঙ্গে তিনি এবং জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে কিয়েভের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি ছিল কিছুটা ঠাট্টার ছলে, তবে ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের পর্যটননগরী এভিয়ান-লে-বাঁয়ে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ভূমিকাকেও তা ইঙ্গিত করে। এর আগে জি-৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার মিত্ররা জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে এবং রাশিয়া কোনো শান্তি চুক্তির শর্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।

নেতাদের যৌথ বিবৃতি ও বিভিন্ন মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে দীর্ঘদিনের সংশয়ের পর ট্রাম্প এখন জেলেনস্কির যুক্তির প্রতি আগের তুলনায় বেশি সহানুভূতিশীল হয়েছেন।

তবে মস্কোকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, যা প্রায়ই অনিশ্চিত বলে বিবেচিত হয়। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে পৃথক বৈঠক হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি নিশ্চিত করার পর রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রমী ছাড়গুলো ওয়াশিংটন বাতিল করবে কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক এক অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিক ও জি-৭ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আমিই বস।” ওই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার ট্রাম্প জেলেনস্কি ও অন্যান্য জি-৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠককে “খুবই ভালো” বলে উল্লেখ করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। রাশিয়ার প্রতি এখন তাদের অবস্থান আরও কঠোর এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা আগের চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।”

ইরান চুক্তির প্রভাব

জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকেও স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্প সম্মেলনের আগের দিন এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নেতারা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তারা জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরি এবং মজুত বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় ধরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ রেখেছিল।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ


কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ফ্রান্স এখন এমন একটি যৌথ ঘোষণার পক্ষে কাজ করছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গত বছর বিরল খনিজ দিয়ে তৈরি স্থায়ী চুম্বকের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে চীন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। এতে বিভিন্ন শিল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক কর্মকর্তা বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

আলোচনায় মূল্য সহায়তা, বাজারমান নির্ধারণ, ভর্তুকি, ক্রয় নিশ্চয়তা এবং চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহব্যবস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলোও রয়েছে। তবে জি-৭ থেকে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো কেবল প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ

২০২৫ সালে চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ছিল বিরল খনিজ ও ব্যাটারি ধাতুর ওপর বেইজিংয়ের ধাপে ধাপে কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ। চীন টাংস্টেন ও অ্যান্টিমনিসহ বিভিন্ন উপাদানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকারও সীমিত করেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো নতুন খনি থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পুনর্ব্যবহার সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কয়েক দশকে গড়ে ওঠা চীনের প্রভাব কমাতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।

২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে একটি বাণিজ্য জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রেক্ষাপটে এই জোট কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা

জি-৭ নেতারা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ করে চীনের তথাকথিত ‘শিকারি প্রতিযোগিতা’ মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা করেন।

ফ্রান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সমস্যার সারাংশ হলো— “চীন অত্যধিক উৎপাদন করছে, যুক্তরাষ্ট্র অত্যধিক ভোগ করছে এবং ইউরোপ যথেষ্ট বিনিয়োগ করছে না।”

চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এবং উচ্চমূল্যের শিল্পখাতে দ্রুত অগ্রগতিকে ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা একে ‘দ্বিতীয় চীন ধাক্কা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বর্তমানে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৬০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার)।

সম্মেলনের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চীনের সঙ্গে সহযোগিতার শেষ চেষ্টা হিসেবে যোগাযোগ করেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভর্তুকি সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বেইজিং ‘বাই ইউরোপিয়ান’ নীতি এবং প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ববিষয়ক সংশোধিত বিধিমালার বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা চীন থেকে বাড়তে থাকা আমদানি মোকাবিলায় আরও কঠোর বাণিজ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন।

বুধবার মধ্যাহ্নভোজের সময় জি-৭ নেতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা করার কথা রয়েছে। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে এআই বট ও এজেন্টের দায়বদ্ধতা এবং সত্য ও মিথ্যা উপস্থাপনায় এআইয়ের ভূমিকা।

এ আলোচনায় ওপেনএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪