| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প: পছন্দ না হলে আবার বোমাবর্ষণ শুরু করব

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৭, ২০২৬ ইং | ১৭:৪৬:২২:অপরাহ্ন  |  ২৫৪৭ বার পঠিত
ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প: পছন্দ না হলে আবার বোমাবর্ষণ শুরু করব
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রয়োজন হলে তিনি আবারও বোমা হামলা শুরু করতে পারেন।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং)। আর যদি এটি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার তাদের ওপর গুলি চালানো শুরু করব, তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব।

তিনি আরও বলেন, যদি আমার ভালো না লাগে, যদি তারা ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবারও সরাসরি তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব, ঠিক আছে?

জি-৭ নেতাদের সমর্থন

বুধবার জি-৭ নেতারা ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরির কথা বলেন।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের স্থান থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে সুইজারল্যান্ড সীমান্তে শুক্রবার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। এই সংঘাতে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা।

জি-৭ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আমরা এমন আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছি, যা অঞ্চল ও এর বাইরের ক্ষেত্রে ইরান থেকে উদ্ভূত হুমকির সমাধান করবে এবং নিশ্চিত করবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

এই সম্মেলনে ট্রাম্প তার ইরান চুক্তি ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পান।

যদিও এসব দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ভাগাভাগি করে, তারা কখনোই ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেনি। পাশাপাশি তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ মোকাবিলা করে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তেহরান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।

নেতারা জানান, চুক্তি বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি জোট সেখানে নৌ-পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।


আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়িয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করেছিলেন, তার বেশিরভাগই অর্জিত হয়নি বলে মনে হচ্ছে। ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা বহাল রয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখনো হস্তান্তর করা হয়নি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়নি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো ইসরায়েলবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ হয়নি।

ট্রাম্প দাবি করছেন, চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না—এ কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও ১৯৭০-এর দশক থেকেই ইরানের সরকারি অবস্থান এমনই। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, পরবর্তী আলোচনায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা ধ্বংসের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

তবে এমন শর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটালে ট্রাম্প সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী অংশ থেকেও সমালোচনা আসতে পারে।


লেবাননের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির অন্যতম বড় প্রশ্ন হচ্ছে লেবাননের পরিস্থিতি। মার্চ মাসে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে লেবাননে অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার পর তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ সীমান্তে হামলা শুরু করলে এ অভিযান শুরু হয়।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এখনো পরাজিত হয়নি।

ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননেও সংঘাত বন্ধ করতে হবে এবং স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

কিন্তু ইসরায়েল, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার বাইরে ছিল, জানিয়েছে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অধিকার সংরক্ষণ করবে।

এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার যুদ্ধকালীন মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেছেন।

জি-৭ নেতারা তাদের বিবৃতিতে লেবাননে “তাৎক্ষণিক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি” এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে নেমে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়।রয়টার্স 


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪