ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানাধীন রাজাগাঁও ইউনিয়নে একটি বন্ধ ঘর থেকে মানিকা বেগম (৫১) নামের এক বাক্প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চাপাতি পাইকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, সবার অগোচরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মানিকা বেগম জন্ম থেকেই বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি চাপাতি পাইকপাড়া গ্রামে তাঁর ভগ্নিপতি মো. দাইমুল ইসলামের বাড়িতেই বসবাস ও খাওয়া-দাওয়া করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯ টার দিকে দাইমুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বেগম গবাদিপশু নিয়ে মাঠে যান। পরে তিনি বাড়ি ফিরে মানিকা বেগমের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এ সময় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাঁরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বাঁশের সরের (আঁড়া) সঙ্গে রশিতে মানিকা বেগমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে রশি কেটে নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. দাইমুল ইসলাম জানান, মানিকা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন এবং কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাঁকে রক্ষা করেন। চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়েছিল।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদিউজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার্স/এসএন